বিশ্বব্যাপী “নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ১৬ দিনব্যাপী ক্যাম্পেইন” পালিত হচ্ছে ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই বৈশ্বিক প্রচারণার অংশ হিসেবে শ্রমজীবী নারী ও নারীর প্রতি ডিজিটাল এবং কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা বন্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে জেন্ডার প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ আজ বুধবার রাজধানী ঢাকায় একটি সাইকেল র্যালি, মোমবাতি প্রজ্বলন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজন করে।
বুধবার সকালে রাজধানীর জাস্টিস শাহাবুদ্দিন পার্ক থেকে রঙিন পোস্টার, ব্যানার ও সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সাইকেল র্যালিটি শুরু হয়। র্যালিটি গুলশান-১ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল মোড় প্রদক্ষিণ করে গুলশান-২ এ গিয়ে শেষ হয়।
এই র্যালিতে জেন্ডার প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন সাইক্লিং কমিউনিটির তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং নারী অধিকার আন্দোলনের কর্মীরা অংশ নেন। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা নারীর প্রতি অনলাইন হয়রানি, সাইবার বুলিং, অশোভন বার্তা বা হুমকি, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি, বৈষম্য ও সহিংসতা বন্ধে সচেতনতার বার্তা প্রচার করেন।
জেন্ডার প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধিরা বলেন, “ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীর প্রতি সহিংসতা দ্রুত বেড়ে চলেছে। সামাজিক ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের মানসিকতা ও আচরণগত পরিবর্তন জরুরি। এই সাইকেল র্যালির মাধ্যমে আমরা সেই বার্তাই সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছি।”
বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ–তে অনুষ্ঠিত হয় মোমবাতি প্রজ্বলন, সংহতি সমাবেশ এবং গণ-স্বাক্ষর কর্মসূচী। নারীর প্রতি অনলাইন ও কর্মক্ষেত্রভিত্তিক সহিংসতার সকল রূপের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিরোধ প্রকাশ করতে অংশগ্রহণকারীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে সংহতি জ্ঞাপনের পাশাপাশি গণস্বাক্ষর কর্মসুচী পালন করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন ডিজিটাল মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা এখন বৈশ্বিক সংকট; বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তাই নারীর নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা দেশব্যাপী উন্নয়ন ও সমতার পূর্বশর্ত। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি খাত, সব পক্ষকেই এই বিষয়ে আরও সক্রিয় হতে হবে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা, হয়রানির বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিকার, এবং সাইবার নৈতিকতার শিক্ষা নিশ্চিত না হলে নারীরা প্রকৃত নিরাপত্তা পাবেন না।
এই সচেতনতা কর্মসূচিতে জেন্ডার প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের চৌদ্দটি সংগঠন এর নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহন করেন।
কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুমোদন, এবং এই কনভেনশনের আলোকে কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করার উদ্দেশ্যে ২০১৭ সালে মানবাধিকার ও শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করা ১৪টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠন (আওয়াজ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস), বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ), বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, এথিক্যাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভ (ইটিআই), ফাউন্ডেশন ফর ল’ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ফেয়ার ওয়্যার ফাউন্ডেশন, ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি), কর্মজীবী নারী, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, মন্ডিয়াল এফএনভি, সলিডারিটি সেন্টার, সবুজের অভিযান ফাউন্ডেশন এবং দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন) এর পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় জেন্ডার প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ।
দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে জাতীয় আলোচনায় নতুন করে গুরুত্ব এনে দেয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি, নারীর ক্ষমতায়ন ও মানবাধিকার রক্ষায় নিয়মিত কর্মসূচি পরিচালনা করবেন।
আজকালের খবর/ এমকে