প্রকাশ: রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫, ৫:২৮ পিএম

বগুড়া সোনাতলায় শতাধিক মানুষের চলাচলের রাস্তা বন্ধে, প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনাটি উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার দক্ষিণ চরপাড়ায়। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
সরেজমিনে দক্ষিণ চরপাড়ায় গেলে স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একমাত্র চলাচলের ওই রাস্তা দিয়ে প্রায় ৪০টি পরিবারের শতাধিক লোকজন ছাড়াও আশপাশের লোকজন জমিতে কৃষি কাজ করার জন্য যাতায়াত করেন। সেই সঙ্গে স্কুলে যাতায়াত করেন শিক্ষার্থীরা। হঠাৎ হিংসাবসত ওই রাস্তা বন্ধ করে ঘর নির্মাণ করে আঃ মজিদ ও তার ছেলে মিলন মিয়া। ফলে মুহূর্তেই যেন সবকিছু থমকে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, মিলন মিয়া কিছু দিন পূর্বে কাজের সন্ধানে বিদেশ যান। সম্প্রতি মিলন মিয়া বিদেশ হতে ফিরেই গাঁয়ের জোরে চলাচলের রাস্তায় ইটের প্রাচীর নির্মাণ করেন। এ বিষয়ে পাশের জায়গার মালিক মৃত ডাক্তার আফজালের ছেলে জাহিদুল ইসলাম জানান, বহু বছর পূর্বে এলাকাবাসীর উদ্যোগে দু- পাশ হতে জায়গা নিয়ে রাস্তাটি নির্মিত হয়। তবে হঠাৎ পাশের বসবাসকারী মিলন মিয়া ও তার বাবা সীমানা ঘেঁষে প্রাচীর নির্মাণ করলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন শতাধিক লোকজন। তিনি বলেন, দু-পাশের জায়গায় রাস্তা নির্মাণ হলে আমাদের কোন আপত্তি নেই।
ভুক্তভোগী সামাদ মিয়া,শরিফুল ইসলাম, স্বাধীন মিয়া,মর্জিনা বেগম,শাপলা খাতুন,তোতা ও আপেল বলেন, আমরা প্রায় ৪০টি পরিবারের শতাধিক মানুষ এখানে বসবাস করে আসছি। তবে মিলন মিয়া সীমানা ঘেঁষে প্রাচীর নির্মাণ করায় আমরা আর চলাচল করতে পারছিনা। রাস্তা বন্ধে আমরা হাট বাজার এমনকি মসজিদে গিয়ে নামাজ পর্যন্ত পরতে পারছিনা। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনা করে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। ফলে উপায় খুঁজে না পেয়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত কপি সহ দরখাস্ত দিয়েছি। তাদের দাবি বন্ধ রাস্তা চলাচলের উপযোগী হলে আবার হয়তো পূর্বের মতোই স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করা সম্ভব হবে।
এদিকে ওই রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বেশ সমস্যায় পড়েছেন স্কুলগামী খুদে শিক্ষার্থীরা। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, সামনে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেই বিদ্যালয়ে আমাদের ছেলে ও মেয়েরা ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতো। সম্প্রতি রাস্তা বন্ধের কারণে ছাত্র ছাত্রীদের স্কুলে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
রাস্তা বন্ধে এলাকাবাসীদের দেয়া অভিযোগ বিষয়ে স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকৃতি প্রামাণিক বলেন, ওখানকার লোকজন আমার কাছে এসেছিলো। আমি বিস্তারিত শুনেছি এবং বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে দেখতে ইউপি চেয়ারম্যানকে বলেছি।
আজকালের খবর/বিএস