দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে পারফর্মিং আর্টস কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির আওতায় দক্ষতা, সংস্কৃতিচর্চা ও কর্মমুখী উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আমানুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিনাজপুর সংগীত ডিগ্রি কলেজে শিক্ষক সমাবেশে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা ও সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ অপরিহার্য। এ লক্ষ্যেই শিক্ষা ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে দক্ষ, সৃজনশীল এবং নেতৃত্বগুণসম্পন্ন শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
উপাচার্য বলেন, দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এখন দক্ষতাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সনদনির্ভর শিক্ষা থেকে বেরিয়ে কর্মসংস্থান উপযোগী মানবসম্পদ তৈরিই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের আরবি, মান্দারিন, জাপানি ও কোরিয়ান ভাষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও রেমিট্যান্স আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
শিক্ষা খাতে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে ড. আমানুল্লাহ বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নই টেকসই অগ্রগতির মূল ভিত্তি। এ লক্ষ্যেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যুগোপযোগী ও দক্ষতানির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ ও ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কলেজ প্রাঙ্গণে একটি বনজ ও একটি ফলদ গাছের চারা রোপণ করেন উপাচার্য।
দিনাজপুর সংগীত ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি প্রফেসর ড. নওশের ওয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।
এতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুধীজন অংশ নেন।
আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
আজকালের খবর/ এমকে