মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেছেন, ‘জুলাই শহিদ দিবস’ বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাঁদের আত্মদান কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়।
১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাইকমিশনার বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের যথাযথ সম্মান, স্বীকৃতি, কল্যাণ এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি জুলাইয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বৈষম্যহীন, মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, কমিউনিটি নেতা এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। একই সঙ্গে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্মিত ‘জুলাই অনির্বাণ’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন মালয়েশিয়া বিএনপির সহসভাপতি মাহবুব আলম শাহ, এনবিএল মানি ট্রান্সফারের সিইও আলী হায়দার মোর্তজা, মালয়েশিয়া যুবদলের সভাপতি মো. জসিমউদ্দীন, সাংবাদিক মো. আমিনুল ইসলাম রতন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শামসুল আলম সিকদার হেলাল, মালয়েশিয়া জাসাসের সভাপতি শেখ আসাদ আসাদুজ্জামান মাসুম এবং মালয়েশিয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ এনামুল হক।
বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যে গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
তাঁরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে শহিদ আবু সাঈদ, শহিদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ গণঅভ্যুত্থানের সব শহিদকে স্মরণ করেন। বক্তারা বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, সাহসিকতা ও দৃঢ় অবস্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকারও আহ্বান জানান তাঁরা।
অনুষ্ঠানে টেলিফোনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন জুলাই আন্দোলনের শহিদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন।
আলোচনা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহিদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা এবং বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
আজকালের খবর/ এমকে