মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নেতৃত্ববিষয়ক সম্মেলন গ্লোবাল লিডারশিপ সামিট-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ থেকে ১২ জুলাই এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন (এপিইউ) ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৪টি দেশের ৩৫০-এর বেশি তরুণ প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, গবেষক ও বিভিন্ন পেশাজীবী অংশ নেন।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে তরুণদের ভূমিকা, নেতৃত্বের বিকাশ, উদ্ভাবন, নীতিনির্ধারণ এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা নিয়ে আয়োজিত এ সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের নেতৃত্ব, বিশ্লেষণী দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাধারা তুলে ধরেন।
সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের ললাটি গ্রামের সন্তান জোবায়ের হক ফাহিম। নেতৃত্বগুণ, উপস্থাপনা, বিশ্লেষণী সক্ষমতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক বিচারকরা তাকে ‘সাইলেন্ট স্ট্রেংথ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করেন। পাশাপাশি সফল অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ সনদও লাভ করেন।
জোবায়ের হক ফাহিম সোনারগাঁ উপজেলার ললাটি গ্রামের মোজাম্মেল হক ও তাসলিমা বেগমের ছেলে। বর্তমানে তিনি সংবাদ উপস্থাপক, শিক্ষক ও মডেল হিসেবে কাজ করছেন।
সম্মেলনে তিনি ‘প্রজেক্ট পিওরস্টেপ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প উপস্থাপন করেন। প্রকল্পটিতে শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস গড়ে তোলা এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার এসডিজি-৩ (সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ), এসডিজি-৪ (মানসম্মত শিক্ষা) এবং এসডিজি-১৭ (অংশীদারত্বের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন) বাস্তবায়নে এর সম্ভাব্য ভূমিকা তুলে ধরেন। তার উপস্থাপনা বিচারকদের প্রশংসা কুড়ায়।
পুরস্কার গ্রহণের পর জোবায়ের হক ফাহিম বলেন, আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশ এবং আমার জন্মভূমি সোনারগাঁয়ের মানুষের জন্যও গর্বের। ভবিষ্যতেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করে আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজ করতে চাই।
সম্মেলনের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত তরুণ নেতৃত্ব ফাতিহা আয়াত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং এসডিজি বাস্তবায়নে তরুণদের সম্পৃক্ত করতেই এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সামাজিক উন্নয়নের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ, উদ্ভাবনী ও মানবিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক পরিসরে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আজকালের খবর/ এমকে