র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯ ও র্যাব-১০-এর যৌথ অভিযানে র্যাব সদস্যদের ওপর সশস্ত্র হামলার মূলহোতা, হত্যা, ডাকাতি, ধর্ষণ, মাদকসহ ১৫টি মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের শীর্ষ সন্ত্রাসী শফিক ওরফে শফিক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, এলিট ফোর্স হিসেবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মাদক, সন্ত্রাস, হত্যা, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, জঙ্গি দমন ও বিভিন্ন অপরাধ দমনে র্যাব কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে ২০২৬ বিকেল ৪টার দিকে র্যাব-৯, সিপিসি-১ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি গোয়েন্দা দল তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নবীনগর হয়ে বাঞ্ছারামপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথে নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া বলিয়ারা গ্রামে পৌঁছালে শফিক ডাকাতের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি র্যাব সদস্যদের মোটরসাইকেল থামিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় কয়েকজন র্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন।
র্যাবের দাবি, সদস্যরা নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের একটি বাড়িতে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করে। পরে র্যাবের আরেকটি আভিযানিক দল স্থানীয় গ্রামবাসীর সহযোগিতায় অবরুদ্ধ সদস্যদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এ ঘটনায় ১৩ মে নবীনগর থানায় র্যাবের একজন সদস্য বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়।
তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারির অংশ হিসেবে গত ১২ মে, ১৮ মে এবং ১৬ জুন পৃথক অভিযানে ওই মামলার ৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এর ধারাবাহিকতায় একটি বিকাশ অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (১৩ জুলাই) রাত ১২টা ২০ মিনিটে র্যাব-৯, সিপিসি-১ ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং র্যাব-১০, সিপিএসসি, লালবাগ, ঢাকার যৌথ আভিযানিক দল রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানার ঝাউলাহাটি শহীদ কাওসার রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার অন্যতম আসামি ও হামলার মূলহোতা শফিক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব জানায়, শফিক ডাকাতের বিরুদ্ধে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে নবীনগর থানা পুলিশের ওপর দুটি হামলা এবং ২০২৬ সালের ১১ মে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় মোট তিনটি পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা রয়েছে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চুরি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা, ধর্ষণ, পর্নোগ্রাফিসহ মোট ১৫টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। সংস্থাটির দাবি, চুরি দিয়ে অপরাধজগতে প্রবেশ করলেও পরবর্তীতে শফিক এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের নির্বাচনের দিন প্রকাশ্যে মাসুদ নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনার পর এলাকায় তার প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়।
গ্রেপ্তার শফিক ডাকাতকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাহিনী।
আজকালের খবর/বিএস