শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বিগত সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বিদেশমুখী হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি পরিবর্তনে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মেধাবীদের দেশে ফিরিয়ে এনে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে।
তিনি বলেন, আমরা চাই শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করুক, আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি অর্জন করুক; তবে সেই অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা নিয়ে দেশে ফিরে কৃষি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখুক। সরকার সে লক্ষ্যে উপযুক্ত গবেষণা পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, একটি জাতির উন্নয়নের মূল ভিত্তি শিক্ষা। তাই শিক্ষার মানোন্নয়নে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও ভোকেশনাল শিক্ষার বাধ্যতামূলক বিষয়গুলোতে পর্যায়ক্রমে অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমমানভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য কমবে।
আজ শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) সামার-২০২৬ টার্মে ভর্তি হওয়া ৫৪৬ নবীন শিক্ষার্থীর ওরিয়েন্টেশন এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল করিম ভূঁইয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিম, ফলজ ও ফুলের গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ও অতিথিরা।
এরপর বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাগত বক্তব্য দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও অর্জনের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, একাডেমিক কার্যক্রম ও শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সামার-২০২৬ টার্মে স্নাতক পর্যায়ে ৫১৩ জন, স্নাতকোত্তরে ৩০ জন এবং পিএইচডি পর্যায়ে ৩ জনসহ মোট ৫৪৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ও বিশেষ অতিথির হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। টাইমস হায়ার এডুকেশন (THE) সাসটেইনেবিলিটি ইমপ্যাক্ট রেটিং-২০২৬-এ দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জনের পাশাপাশি এসডিজি-১ সূচকে বিশ্বের ৮২তম, এসডিজি-২-এ ৬৬তম এবং এসডিজি-৪ সূচকে ১০১-২০০-এর মধ্যে স্থান লাভ করেছে।
তিনি আরও জানান, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস ফর ইনোভেশন (WURI) ২০২৬-এ অর্থনৈতিক উন্নয়নমুখী প্রযুক্তি হস্তান্তর ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ ১০০-এর মধ্যে ২৩তম স্থান এবং কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস: সাসটেইনেবিলিটি-২০২৬-এ দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর ছয়টি উন্নত কৃষিজাত উদ্ভাবনের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ৯৭টি উচ্চফলনশীল জাত এবং ২০টিরও বেশি কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠান শেষে নবীন শিক্ষার্থীদের সফল শিক্ষাজীবন, গবেষণামুখী শিক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে অতিথিরা।
আজকালের খবর/ এমকে