গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র অদলবদল করে পরীক্ষা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় কেন্দ্রটির দুটি কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। এতে নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা অনিয়মিতদের সিলেবাসে এবং অনিয়মিতরা নিয়মিতদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা জানায়, ১০৭ নম্বর কক্ষের প্রায় ৬০ জন নিয়মিত শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন এবং ১০৯ নম্বর কক্ষের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ২০২৬ সালের নিয়মিতদের প্রশ্ন দেওয়া হয়। পরীক্ষার সময় ভুল ধরিয়ে দিলেও দায়িত্বরত শিক্ষকরা 'সমস্যা নেই' বলে পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বলেন। এই ভুলের কারণে এখন ফলাফল নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা ও শিক্ষাবর্ষ নষ্টের ঝুঁকিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। কেন্দ্র সচিব ও কলেজের অধ্যক্ষ এস. এম. আসাদুল ইসলাম জানান, তিনি শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছেন।
যে প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা নেওয়া হোক না কেন, সেই অনুযায়ীই খাতা মূল্যায়ন করা হবে এবং পরীক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না। ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানও পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে গাইবান্ধা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সম্পূর্ণ দায় কেন্দ্র সচিবের। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত ও অনিয়মিতদের আলাদা কক্ষ এবং প্রশ্নপত্র যাচাই নিশ্চিত করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব