এনেস্থিসিয়া, গাইনি ও সার্জারি কনসালটেন্টের অভাবে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (৫০ শয্যা) অপারেশন থিয়েটারটি দীর্ঘ তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে সিজারিয়ানসহ সব ধরনের অপারেশন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় রোগীরা। এর পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় নাক, কান, গলা, চক্ষু, চর্ম ও যৌন, হৃদরোগ এবং অর্থোপেডিক রোগীরাও এখানে কোনো সরকারি চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮ জন মেডিকেল অফিসারের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন। এছাড়া, ১১ জন কনসালটেন্ট (বিশেষজ্ঞ) পদের বিপরীতে শিশু ও এনেস্থিসিয়া বিশেষজ্ঞ পদায়ন করা থাকলেও তারা বর্তমানে সংযুক্তিতে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। শুধু চিকিৎসকই নয়, হাসপাতালে তীব্র পরিচ্ছন্নতাকর্মী, আয়া ও ওয়ার্ড বয় সংকট থাকায় হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ রক্ষা এবং রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিরামপুরের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহরিয়ার পারভেজ জানান, বিরামপুরসহ পার্শ্ববর্তী তিন উপজেলার রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। সুসজ্জিত অপারেশন থিয়েটার থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অভাবে গত তিন বছর ধরে সব ধরনের অপারেশন বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে বিভিন্ন জটিল রোগের রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কুমার সেন বলেন, হাসপাতালের এই জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কনসালটেন্ট ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী না আসা পর্যন্ত অপারেশন থিয়েটার চালু করা এবং হাসপাতালের শতভাগ পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব