ঝালকাঠি জেলায় ২৫ ব্যক্তির নামে ইস্যুকৃত ৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। গত ৪ জুন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন এ-সংক্রান্ত আদেশে স্বাক্ষর করেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাতিল হওয়া লাইসেন্সগুলো ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের মধ্যে রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যু করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী এসব লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘দ্য আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৭৮’-এর ২৬ ধারার ক্ষমতাবলে লাইসেন্সধারীদের চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিজ নিজ থানায় আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে জমা দেওয়া অস্ত্র ও লাইসেন্স যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল এবং অন্য ক্ষেত্রে অস্ত্র ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন জানায়, ঝালকাঠি জেলায় থাকা শতাধিক আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পর্যালোচনা করে ২৫ ব্যক্তির ৩৩টি লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির আগে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে ইস্যুকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বহাল থাকবে। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্টদের অস্ত্র ফেরত দেওয়া হবে।
এদিকে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী যেসব লাইসেন্সধারী ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেননি, সেসব অস্ত্র অবৈধ হিসেবে গণ্য করে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
লাইসেন্স বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ রাজ্জাক সেলিম ও খান আরিফুর রহমান, সাবেক পৌর মেয়র আফজাল হোসেন রানা, জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম তালুকদার, আইন সম্পাদক রুহুল আমিন রিজভী, পৌর কাউন্সিলর কামাল শরীফ, রেজাউল করিম জাকির, হাফিজ আল মাহমুদ, কীর্তিপাশার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মিয়া, গাভারামচন্দ্রপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লিটন, নবগ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক আকন্দসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। এছাড়া ইয়াসমীন পপি, চন্দ্র শেখর হালদার, শাহীন মৃধা, আরিফ হোসেন এবং রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলার কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার লাইসেন্সও বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া লাইসেন্সধারীদের তালিকায় জাতীয় পার্টির নেতা এম.এ. কুদ্দুস খানের নামও রয়েছে।
আজকালের খবর/রাশেদুল মিলন