শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল সুইজারল্যান্ডের হাতে। তবে শেষ দিকে দারুণ এক হেডে গোল করে ইতিহাস গড়লো কাতার। সান ফ্রান্সিস্কো স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে তারা। ২০২২ সালে অভিষেকের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচে পয়েন্ট পেলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে তিন ম্যাচের সবক’টিতে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে ম্যানুয়েল আকানজির ভুলে বল পেয়ে যান এডমিলসন, কিন্তু দ্রুত এগিয়ে এসে নিশ্চিত গোল রুখে দেন সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় সুইজারল্যান্ড। সপ্তম মিনিটে মিশেল এবিশারের পাস থেকে দান এনদোয়ের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন আবুনাদা। তিন মিনিট পর আবারও সুযোগ পান এনদোয়ে, তবে তাঁর জোরালো প্রচেষ্টা অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ক্রমাগত আক্রমণের ফল পায় সুইসরা ১৪তম মিনিটে। বক্সের ভেতরে রেমো ফ্রয়েলারকে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। ভিএআরে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার পর সেটি বহাল থাকে এবং ১৭তম মিনিটে স্পটকিক থেকে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ব্রিল এম্বোলো।
প্রথমার্ধের বাকি সময়েও সুইজারল্যান্ডই ছিল আক্রমণাত্মক। দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র। ৪৯ ও ৫০তম মিনিটে টানা দু’টি সুযোগ তৈরি করেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি সুইজারল্যান্ড। ৬৩ মিনিটে রুবিন ভার্গাসের দারুণ একক দৌড় থামাতে কাতারকে ফাউলের আশ্রয় নিতে হয়। তবে সেই ফ্রি-কিক থেকেও গোল আদায় করতে পারেনি ইউরোপের দলটি। এরপরও একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড, কিন্তু প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান কাতারের গোলরক্ষক আবুনাদা। তাঁর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ ম্যাচে কাতারকে টিকিয়ে রাখে।
যখন মনে হচ্ছিল জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে সুইসরা, তখনই আসে নাটকীয় মোড়। যোগ করা ছয় মিনিটের চতুর্থ মিনিটে হোমাম এল আমিনের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে বল জালে পাঠান বুয়ালেম খৌখি। তাঁর দুর্দান্ত হেডটি গিয়ে জড়ায় গোলপোস্টের ডানদিকের নিচের কোণে, আর তাতেই স্তব্ধ হয়ে যায় সুইস শিবির।
আজকালের খবর/কবির