ওমানে বসবাসরত বাংলাদেশি তরুণ ব্যবসায়ী ও জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর মিজানের মরদেহ নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ছিল ২৬ হাজারেরও বেশি।
জানা যায়, ওমানের সোহার শহরে বসবাসকারী মিজানের চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। গত শুক্রবার তিনি বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। সন্ধ্যার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনরা বিভিন্ন স্থানে তাঁর খোঁজ করতে থাকেন।
মিজানের বন্ধু মোহাম্মদ রবিউল জানান, সোমবার সকাল আটটার দিকে সোহারের লুলু হাইপার মার্কেটের পার্কিং এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে দরজা বন্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় এক ওমানি নাগরিক। খবর পেয়ে রয়েল ওমান পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করে। পরে সেটি মিজানের মরদেহ বলে শনাক্ত করা হয়।
মিজানের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার বিপি দাউদপুর গ্রামে। তিনি আবদুল জব্বারের ছেলে এবং তিন ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সোহার হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির ভেতরে কোনো বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে শ্বাসরোধ বা বিষক্রিয়াজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় ওমান প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছেন অনেকে।
আজকালের খবর/কবির