হঠাৎ বৃষ্টি! সঙ্গে বজ্রপাতসহ ঝোড়ো হাওয়া। দীর্ঘদিনের তীব্র দাবদাহের পর সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও কলকাতা শহর সহ পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং পশ্চিমবঙ্গে কয়েকটি জেলায় ঝড়ো হওয়ার দাপটে সাময়িক দুর্ভোগে জনজীবন। ঝড় ও বজ্রপাত সহ বৃষ্টিতে গোটা রাজ্যে প্রাণ গেল সাতজনের। আহত হয়ে রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে ভর্তি বেশ কয়েকজন মানুষ।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাতজনের মৃত্যুর ঘটনার শোক প্রকাশ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেইসঙ্গে নিহতদের মাথা পিছু চার লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণেরও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত ও সমস্ত চিকিৎসাভার দেওয়ার পাশাপাশি তাদের জন্য আর্থিক ক্ষতি পূরণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে নবান্নে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন দুপুরে আচমকাই বদলে যায় আবহাওয়া। আকাশজুড়ে ঘন কালো মেঘের আনাগোনায় দুপুরবেলাতেই নেমে আসে সন্ধ্যার অন্ধকার। এর সঙ্গে শুরু হয় প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টি। ঝড়ের গতিবেগ ছিল সর্বোচ্চ ৮৮ কিলোমিটার। ক্ষয়ক্ষতির পরিবারের খবর এসেছে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া জেলা থেকে।
দুপুর প্রায় আড়াইটে নাগাদ কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির তীব্রতা এতটাই ছিল যে রাস্তাঘাট প্রায় মানুষ শূন্য হয়ে পড়ে। বহু পথচারী বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে রাস্তার ধারের দোকান ও ছাউনির নীচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
কলকাতার রফি আহমেদ কিদওয়াই রোড, টালা পার্ক, ময়দান, বেহালা, আনন্দপুর, বিবাদীবাগ এলাকায় কোথাও পানি জমে গেছে, কোথাও গাছ ভেঙে পড়ে। দক্ষিণ কলকাতার সাউথ সিটি শপিং মলের দেওয়ালের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে যে কাঁচের দেওয়াল ছিল, সেই কাঁচ ভেঙে পড়ে। গাছ পড়ে একাধিক গাড়ি, বাড়ি, দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি থই থই অবস্থা কলকাতা বিমানবন্দরে রানওয়ে। ফলে প্রায় এক ঘন্টা কলকাতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান পরিষেবা ব্যাহত। পূর্ব রেলের অধীন শিয়ালদা-বনগাঁ শাখায় ট্রেন চলাচল সাময়িক বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
আজকালের খবর/বিএস