ঈদুল আজহার ফজিলত
হিজরি ক্যালেন্ডারের জিলহজ মাসের ১০ তারিখ পবিত্র ঈদুল আজহার দিন ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দিন। কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঈদুল আজহার দিনের শপথ করেছেন। আল্লাহ বলেন, শপথ ভোরবেলার, শপথ দশ রাতের, শপথ জোড় ও বেজোড়ের। (সুরা ফাজর: ১-৩)
জাবের (রা.) বৰ্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এ আয়াতে দশ হচ্ছে জিলহজ মাসের দশ দিন, বেজোড় হচ্ছে আরাফার দিন আর জোড় হচ্ছে কোরবানির দিন। (মুসনাদে আহমদ: ৩/৩২৭)
হাদিসে কোরবানির দিনকে দিনসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনে কুরত থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, দিনগুলোর মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল, নহরের দিন (অর্থাৎ কোরবানির প্রথম দিন) এরপর এর পরবর্তী দিন (অর্থাৎ কোরবানির দ্বিতীয় দিন)। (সুনানে আবু দাউদ: ১৭৬৫)
ঈদুল আজহার ওয়াজিব আমল ঈদের নামাজ
ঈদুল আজহার অন্যতম ওয়াজিব আমল কোরবানি, আরেকটি ওয়াজিব আমল হলো ঈদের নামাজ। কোরবানি করতে হবে ঈদের নামাজ আদায় করার পর। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈদের নামাজের খুতবায় বলেছিলেন, আজকের এই দিনে প্রথম আমরা ঈদের নামাজ আদায় করবো। এরপর ফিরে গিয়ে কোরবানি করবো। যে ব্যাক্তি এভাবে করলো, সে আমার সুন্নত অনুসরণ করলো। (সহিহ বুখারি: ৫৫৬০)
ঈদুল আজহার নামাজ কখন পড়তে হবে?
ঈদুল আজহার নামাজ সুর্যোদয়ের পর থেকে দিপ্রহরের পূর্ব পর্যন্ত আদায় করা যায়। সূর্য একটু ওপরে ওঠার পর দ্রুত ঈদের নামাজের আয়োজন করা উত্তম; যেন দ্রুত কোরবানি করা যায় এবং কোরবানির গোশত দিয়ে ঈদের দিনের খাওয়া-দাওয়া শুরু করা যায়।
ঈদুল আজহার নামাজের নিয়ত
অনেকেই মনে করেন যে কোনো নামাজের আগে আরবিতে ওই নামাজের নিয়ত মুখস্থ বলা জরুরি, এটা একদমই ভুল ধারণা। বরং নিয়ত মূলত অন্তরের ইচ্ছা। আপনি মনে মনে জানেন যে, আপনি এই ইমামের পেছনে অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সাথে ঈদুল আজহা বা ঈদুল ফিতরের ওয়াজিব নামাজ আদায় করছেন—এটিই যথেষ্ট।
তবে মনের প্রশান্তির জন্য কেউ চাইলে মুখে বাংলা বা আরবিতে নিয়ত উচ্চারণ করতে পারেন।
বাংলায় ঈদুল আজহার নামাজের নিয়ত করতে পারেন এভাবে:
‘আমি কিবলামুখী হয়ে এই ইমামের পেছনে অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সঙ্গে দুই রাকাত ঈদের ওয়াজিব নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি।’
তারপর আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করুন।
ধাপে ধাপে ঈদুল আজহার নামাজের নিয়ম
ঈদুল আজহার নামাজের কোনো আজান বা ইকামত হয় না। ইমাম সাহেব কাতার সোজা করার তাগিদ দিয়ে সরাসরি নামাজ শুরু করেন। ঈদুল আজহার নামাজ দুই রাকাত এবং এতে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির দেওয়া ওয়াজিব।
প্রথম রাকাত আদায়ের পদ্ধতি
তাকবীরে তাহরিমা: প্রথমে ইমাম সাহেবের সঙ্গে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বেঁধে কান পর্যন্ত উঠিয়ে নাভি বরাবর বেঁধে নিন। এরপর মনে মনে সানা পড়ুন।
অতিরিক্ত ৩ তাকবির: ছানা পড়া শেষ হলে ইমাম সাহেব উচ্চস্বরে ৩টি অতিরিক্ত তাকবির দেবেন।
১ম তাকবির: ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দিন, হাত বাঁধবেন না।
২য় তাকবির: একইভাবে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিন।
৩য় তাকবির: ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত উঠিয়ে এবার নাভি বরাবর বেঁধে নিন।
কিরাত ও রুকু-সিজদা: এরপর ইমাম সাহেব স্বাভাবিক নিয়মে আউজুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ পড়ে সুরা ফাতেহা এবং অন্য একটি সূরা তিলাওয়াত করবেন। মুসল্লিরা মনোযোগ দিয়ে তা শুনবেন। কিরাত শেষে সাধারণ নামাজের মতোই রুকু ও দুটি সিজদা করে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যাবেন।
দ্বিতীয় রাকাত আদায়ের পদ্ধতি
কিরাত: দ্বিতীয় রাকাতের শুরুতে দাঁড়িয়েই হাত বেঁধে ইমাম সাহেব সুরা ফাতেহা এবং অন্য একটি সুরা পাঠ করবেন। মুসল্লিরা মনোযোগ দিয়ে তা শুনবেন।
রুকুর আগে ৩ তাকবির: সুরা ফাতেহা ও অন্য একটি সুরা পড়ার পর রুকুতে যাওয়ার ঠিক আগে ইমাম সাহেব অতিরিক্ত ৩টি তাকবির দেবেন।
৩টি তাকবিরেই ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দিন, হাত বাঁধবেন না।
রুকুতে গমন: এরপর ৪র্থ বার যখন ইমাম সাহেব ‘আল্লাহু আকবার’ বলবেন, তখন হাত না উঠিয়ে সরাসরি রুকুতে চলে যান।
নামাজ সমাপ্তি: এরপর রুকু-সিজদা শেষ করে যথানিয়মে তাশাহহুদ, দরুদ শরিফ ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফিরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করুন।
নামাজ শেষে খুতবা ও তাকবির
ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার পর ইমাম সাহেব খুতবা দেবেন, ওই খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। খুতবা শেষ হলে ইমামের সঙ্গে দোয়া করুন।
ঈদুল আজহার দিন নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এবং জিলহজের দিনগুলোতে উচ্চস্বরে এই তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা সুন্নত:
‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’
তাকবিরে তাশরিক পড়তে পড়তে বাড়ি ফিরুন এবং আল্লাহ তাআলা সামর্থ্য দান করলে তার সন্তুষ্টির জন্য পশু কোরবানি করার প্রস্তুতি নিন।
আজকালের খবর/ এমকে