খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। বুধবার (২০ মে) ভোর ৬টায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
এসময় তাড়াহুড়ো করে বের হওয়ার সময় আইসিউতে ভর্তি থাকা একজনসহ মোট তিন রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য অস্বীকার করেছে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বুধবার সকালে আইসিইউ থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ৯০ বছর বয়সী এক রোগী, রূপসার আনন্দনগর এলাকার আব্দুস সাত্তার লস্কর (৬০) নামের আরেক রোগী ও কয়রা উপজেলার নাসরিন আক্তার নামের একজনসহ মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
তবে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও ) ডা. শামীম আহসান এ তথ্য অস্বীকার করে বলেন, এটি কোনো অফিসিয়াল বক্তব্য নয়।
শুধু তিন তলা থেকে নামানোর সময় একজন নার্স গুরুতর আহত হন। তাকে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ডায়াবেটিসের কারণে গত মঙ্গলবার চিকিৎসা নেওয়ার জন্য নাসরিন নামের এক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। বুধবার সকালে আগুনের আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক খুলে গেলে অক্সিজেনের অভাবে কয়রার ওই রোগী মারা যান।
তাছাড়া রূপসার আনন্দনগরের আব্দুস সাত্তার লস্কর অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালের সামনের একটি ফার্মেসির সামনে মৃত অবস্থায় পড়েছিলেন বলে লোকজন দেখতে পান। তবে তার কোনো স্বজনকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় ইমার্জেন্সি অপারেশন থিয়েটার ও পোস্ট অপারেটিভ রুমের পাশে পুরাতন মালামাল রাখার ওয়েস্টেজ স্টোর রুমে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ওয়ার্ডে থাকা রোগীর বেড, অপারেশন থিয়েটারের সরঞ্জাম, ফ্যান, এসি, জানালা, দরজাসহ সব মালামাল পুড়ে গেছে।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক (অ্যানেসথেসিওলজি) ডা. দিলিপ কুমার কুন্ডুকে সভাপতি ও তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আখতারুজ্জামানকে সদস্যসচিব করে গঠিত এ কমিটির সদস্যরা হলেন, সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারি) ডা. জ্যোতির্ময় সাহা, সহকারী পরিচালক ডা. কাজী আহসান হাবিব এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এস এম মেহেদী।
আজকালের খবর / রাশেদুল মিলন