নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলায় গতকাল রাতের প্রবল ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট সহ বৈদ্যুতিক খুঁটি ও অনেক গাছপালা। ঝড়ের বেগে উড়ে গিয়েছে হাওরে কৃষকের ধান ও শুকনো গবাদিপশুর খড়ের গাদা ।
এ ছাড়া গাছপালা ভেঙে বিদ্যুতের খুঁটির ওপর পড়ায় বিভিন্ন জায়গায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে যাওয়য় বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গতকাল রবিবার (১৭ মে) দিবাগত রাত ৯:৩০ টার পর থেকে দফায় দফায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানে এই ঝড়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত ৯:৩০টার পর থেকে দফায় দফায় শুরু হয় ঝড়বৃষ্টি। এতে উপজেলার সদরের বাজারে রাজীব সরকার ভ্যারাইটিজ স্টোর ও অন্তর বর্মণের সেলুন ও সামসুল ইসলাম তাং এর ঘরে ঝড়ে উড়ে ভেঙে যায়। তাছাড়া খালিয়াজুরী যোগিমারা গ্রামের প্রায় ৪-৫ টি ঘর ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।
এছাড়াও ঝড়ের তীব্রতায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ও অনেক কাঁচা ও আধাপাকা ঘর ও দোকানপাট লন্ডভন্ড হয়েছে। অনেক জায়গায় সড়কে গাছপালা ভেঙে পড়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ-সরবরাহ। ঝড়ের সময় মেঘের গর্জন ও বিজলির ঝলকানিতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খালিয়াজুরী বাজারের ব্যবসায়ী রাজিব সরকার বলেন, ‘কিছুদিন আগেই তার ঘরে একটি আইসক্রিম রাখার ফ্রিজ ও আরেকটি কোল্ডডিংকস রাখার ফ্রিজ দোকানে এনেছিল। ঝড়ে এসব কিছুই মালামাল সহ ভেঙ্গে গেছে ও।
যোগিমারা গ্রামের "প্রাণতোষ সরকার" জানান একই গ্রামের তাপস সরকার,বিমল সরকারে ঘর ঝড়ে বেগে কোথায় যে উড়ে গেছে তার চিহ্ন খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া গ্রামের জুয়েল সরকার যাত্রীবাহী বড় নৌকা ভেঙে তছনছ হয়ে গিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক জিয়াউল হক হিমেল জানান ঝড়ের তীব্রতার সাথে সব কিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায় ।খালিয়াজুরী বাজার ঘাটে রড ও সিমেন্ট বোঝাই একটি বড় স্টিলবডি নৌকা মূহুর্তেই মালামাল সহ ডুবে যায়।
এদিকে খালিয়াজুরী পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে , ‘রাতে দফায় দফায় বয়ে যাওয়া ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ও এতে প্রায় বিভিন্ন এলাকায় ৭-৮ টি খুঁটি ভেঙে ও ফেলে পরেছে। এগুলো মেরামত কাজ চলছে তবে তা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।
এ বিষয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, ‘উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে গ্রাম ও খালিয়াজুরী বাজারের ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়েছি ও তা পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে।’
আজকালের খবর/ এমকে