রাজশাহীর বাগমারায় দুটি খালের পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সাইদুর রহমান খান।
শনিবার (১৬ মে) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের হাটগাঙ্গোপাড়া ব্রিজ থেকে বাইগাছা ব্রিজ পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার এবং উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের মধ্যঝিনা হয়ে মাদাখালি ভায়া রনশিবাড়ি সাত কিলোমিটার খালের পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খাল দুটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচ সংকট তৈরি হতো। এসব সমস্যা সমাধানে প্রতিটি ১ কোটি ৮০ লক্ষ ২০ হাজার ২৩২ টাকা করে মোট ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৪০ হাজার ৪৬৪ টাকা বরাদ্দে খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রকল্পের উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প দুটির প্রতিটিতে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭০ ঘনমিটার মাটি খননের কাজ করা হচ্ছে। এতে ৪১৬ জন করে মোট ৮ শত ৩২ জন উপকারভোগী শ্রমিক অংশগ্রহণ করছেন। প্রতিদিন ১ জন শ্রমিক ৫০০ টাকা হারে মজুরি পাচ্ছেন। প্রকল্পটি নির্ধারিত ৪০ কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিদর্শনকালে সচিব সাইদুর রহমান বলেন, এই খাল দুটি পুনঃখনন করা হলে বাগমারার পাঁচটি ইউনিয়নের জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা তাদের জমিতে পানি সেচ দিতে পারবে।
বাগমারা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নূর এ সেফা বলেন, ১০ ফিট গভীর করে খাল দুটি খনন করা হচ্ছে যাতে কৃষকরা এখান থেকে জমিতে পানি সেচ দিতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আকরামুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো ভরাট হয়ে থাকায় কৃষিকাজ ও পানি নিষ্কাশনে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। পুনঃখনন কাজ শেষ হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা কমানো এবং পরিবেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এসময় বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ, সহকারি কমিশনার ভূমি মোঃ সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া সহ উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের সময় ত্রান সচিব স্থানীয় জনসাধারণ, জনপ্রতিনিধি এবং সাংবাদিকদের সাথে কাজের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেন।
আজকালের খবর / রাশেদুল মিলন