গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ক্যাম্পাসে নতুন ভিসির দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (১৭ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা দফায় দফায় সংঘর্ষে ছাত্রশিবির-পুলিশের মধ্যে পুরো ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান, ডিসি রবিউল, সদর থানার ওসি (তদন্ত) মেহেদী, সদর উপজেলার ইউএনও সাজ্জাত হোসেন, সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেনসহ অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে।
জানা যায়, রবিবার সকাল ১০টার দিকে নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল দায়িত্ব গ্রহণের উদ্দেশ্যে ডুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
অভিযোগ উঠেছে, সাবেক ভিসি অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আবু তৈয়ব, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক খসরু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক কাজী রফিকের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উস্কানিতে শিবিরের ডুয়েট শাখার সভাপতি আব্দুল আহাদ ও সাধারণ সম্পাদক তাসনীমের নেতৃত্বে কয়েকশ নেতাকর্মী ক্যাম্পাসের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেও বিপুলসংখ্যক কর্মী এনে অবস্থান জোরদার করা হয়।
অন্যদিকে নতুন ভিসির দায়িত্ব গ্রহণকে সমর্থন জানিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও ক্যাম্পাস এলাকায় অবস্থান নেয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গেট খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশ পাল্টা টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করে। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই ক্যাম্পাস ধোঁয়া, চিৎকার ও ছত্রভঙ্গ শিক্ষার্থীদের দৌড়ঝাঁপে অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।
সংঘর্ষ চলাকালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করে। অনেক শিক্ষার্থী হল ও একাডেমিক ভবনে আশ্রয় নেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অনেকেই অফিস ত্যাগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর পুরো ডুয়েট ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আজকালের খবর/বিএস