ফেনী শহরের 'ওয়ান স্টপ মেটারনিটি ক্লিনিকে’ ভুল চিকিৎসা ও কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় নাঈমা আক্তার লিজা (২১) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে দায়ী চিকিৎসকদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) সকাল ১১টার দিকে ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে ফেনী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে নিহত লিজার পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
নিহত লিজা ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের সৌদি প্রবাসী মুজিবুল হকের স্ত্রী। এর আগে গত ১০ এপ্রিল ওই ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের (সিজার) মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন তিনি। এর ২০ ঘণ্টার মাথায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর গত ১১ এপ্রিল রাতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেয়।
মানববন্ধনে লিজার ভাবি তাহমিনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, প্রসব ব্যথা শুরু হলে লিজাকে প্রথমে লস্করহাটের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে এক নার্সের প্ররোচনায় তাকে শহরের ওয়ান স্টপ মেটারনিটি ক্লিনিকে আনা হয়। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিজারের জন্য চাপ দিয়ে ২২ হাজার টাকায় চুক্তি করে এবং ওই রাতেই ডা. নাসরিন আক্তার মুক্তা ভুল অস্ত্রোপচার করেন, যার ফলে লিজার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা মো. নূর করিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই ক্লিনিকে প্রায়ই রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অর্থ ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বার বার পার পেয়ে যায়। আমরা চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই নৈরাজ্যের অবসান এবং দায়ী চিকিৎসকদের ফাঁসি চাই।" মানববন্ধনে লিজার ভাবি জুলি আক্তার, চাচাতো ভাই শাহাদাত হোসেন ও মো. রুবেলসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বক্তব্য রাখেন এবং এই ক্লিনিকটি স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় গত ১৭ এপ্রিল তিন চিকিৎসকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন— ওয়ান স্টপ মেটারনিটি ক্লিনিকের মালিক ডা. নাজমুল হক ভূঁইয়া, তাঁর স্ত্রী ডা. নাসরিন আক্তার মুক্তা, ফেনী প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক ডা. আবদুল কাইয়ুম, মোটবী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিদর্শিকা গীতা রানী ও ক্লিনিকের ম্যানেজার আতিকুর রহমান।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব