নরসিংদীতে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় একটি কেন্দ্রের কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের ভুলের মাসুল দিতে হচ্ছে ২০ জন পরীক্ষার্থীকে| যে ¯স্বপ্ন নিয়ে এই ছেলেমেয়েরা এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ছিল, সে প্রস্তুতির হুচট খেয়েছে প্রথম দিনের পরীক্ষায়ই| এমন ঘটনা ঘটেছে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার কারারচর মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে| ওই কেন্দ্রে বিভিন্ন কক্ষের মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা তিনশতাধিক| এর মধ্যে একটি কক্ষে ২০ জন পরীক্ষার্থীর হাতে দেয়া হয়েছে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র| যে প্রশ্নপত্র নিয়মিত অর্থাৎ ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য নয়| এমন সিলেবাস বহির্ভূত প্রশ্নপত্রে প্রথম দিনের বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা| বিষয়টি পরীক্ষার দিনই পরীক্ষার্থীরা আপত্তি তুললে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা পরীক্ষার্থীদেরকে ধমক দিয়ে এ প্রশ্নেই পরীক্ষা দেয়ার জন্য বলেন| কিন্তু প্রশ্নপত্র সঠিক না হওয়ায় ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবাই এখন পরীক্ষায় নিশ্চিত ফেল করবে বলে আশংকা করছে|
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নরসিংদী প্রেস ক্লাবে এসে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন|
পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা জানান, কারারচর মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি কক্ষে চারটি স্কুলের মোট ২০ জন পরীক্ষার্থী প্রথম দিনের বাংলা প্রথমপত্র বিষয়ে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ছে| স্কুল চারটি হলো- পুটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ফেমাস ইন্সটিটিউট, হাজী শমসের আলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঘাঘটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়|
শমসের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী মাহিমা আক্তার মিম জানায়, ক্লাসে তার রোল নাম্বার ছিল এক এবং সে এসএসসির আগে স্কুলের টেস্ট পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে পাশ করে| যা জিপিএ-৫ পাওয়ার উপযোগী| ওই হিসেবে সে বাংলায় এখন ২০ নম্বরও পাবেনা বলে ধারণা করছে| তার মতো এমন বাকী পরীক্ষার্থীরাও বাংলায় ফেল করবে বলে আশঙ্কা করছেন|
নাদিরা সুলতানা, উম্মেহানি, নাজির আহমেদ, বিশাল দাস, সম্রাট ভূইয়া, সিয়াম হোসেন, আমিনুল, অভি, সাকিব, মোঃ শাহপরান জানায়, পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েই তারা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রশ্নপত্র ভুলের বিষয়টি জানিয়েছে কিন্তু কেন্দ্রের দায়িত্বরত শিক্ষকেরা তাদেরকে ধমকিয়ে এ প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে বলে এবং এ বিষয়টি বাইরের কাউকে না জানাতে বলেন|
এ ব্যাপারে সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার এ.কে.এম শাহজাহান বলেন, এ প্রশ্নপত্র ভুলের বিষয়টি মূলত কেন্দ্র সচিব, হল-সুপার এবং কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের গাফিলতি ও অবহেলার কারণে হয়েছে| এ প্রশ্নপত্র ছিলো পুরনো সিলেবাসের, অর্থাৎ এক বছর আগে যারা বাংলা বিষয়ে ফেল করেছে তাদের জন্য| নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য নয়| এ প্রশ্নপত্র বিতরণের সময়ই ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা দরকার ছিল| তারা সে কাজটি করে নাই বলেই তাদের ভুলের মাসুলটা এখন দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থী বা পরীক্ষার্থী ছেলে-মেয়েদের|
এ বিষয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও আইসিটি) মুঃ রাশেদুজ্জামান জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ আমরা সকলেই জেনেছি| এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে| প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রে দায়িত্বরতদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে| উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|