শিক্ষাঙ্গন-সহ দেশব্যাপী ছাত্রদলের অব্যাহত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জ্বালানি ও গ্যাসের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং অবৈধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০ টায় বিশ্বিবদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন নেতাকর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সমবেত হয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা।
বিক্ষোভ মিছিলে “সিটি কলেজে হামলা কেন? তারেক সরকার জবাব দে; আমার ভাই আহত কেন? প্রশাসন জবাব দে; রামদাদলের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না; সন্ত্রাসীদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না; সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজ, মিলেমিশে একাকার; জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার; শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, চলবে না চলবে না; শিক্ষা সন্ত্রাস, একসাথে চলে না; শিক্ষা রামদাদল একসাথে চলে না; পাম্প আছে, তেল নেই; খাম্বা আছে, কারেন্ট নেই; যে হবি স্বৈরাচার, তাকে বলবো বাংলা ছাড়; যদি হও স্বৈরাচার, জুলাই ফিরবে বারবার” ইত্যাদি স্লোগান দেন।
শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া হোসাইন বলেন, 'চট্টগ্রামের সিটি কলেজে নিয়মিত ক্লাস করতে আসা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল। শুধুমাত্র তাই নয়, ছাত্রশিবির যখন তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করতে গিয়েছে, সেখানে ছাত্রশিবিরের উপরে হামলা চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারা রেহাই পায় নাই। ছাত্রশিবির যখন গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তারা লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। ছাত্রলীগকে হাসিনা আগে যেভাবে লেলিয়ে দিত।নিক এরই প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপরে বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে। ছাত্রশিবিরকে মারা জায়েজ ছিল। সেই একই কাজ শুরু করেছে তারেক ও তার বাহিনী।'
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, “৫ আগস্ট পরবর্তীতে একটি দল এই দেশকে তাদের নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করে, যেখানে-সেখানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, গুন্ডামি, মাস্তানির সয়লাব ছড়িয়ে দিয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অসংখ্য ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রকাশ্যে রামদা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমার ভাইয়ের গোড়ালিকে আঘাত করে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এই সন্ত্রাস আমরা আর সহ্য করবো না। ছাত্রশিবিরের জন্ম হয়েছে স্বৈরাচারের কবর রচনা করার জন্য। সাবধান হয়ে না যান, প্রতিটি সন্ত্রাসীর পিঠের চামড়া আমরা তুলে নিতে বাধ্য হবো। এখনো সময় আছে, সতর্ক হয়ে যান। তা না হলে এ দেশের শিক্ষার্থী, জুলাই আন্দোলনের শক্তি, জুলাই যোদ্ধারা আপনাদের কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না।”
আজকালের খবর/ এমকে