মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে পাড়ি দিয়েছে ভারতীয়সহ ৪ জাহাজ। একটি নতুন একটি শিপিং রুট ব্যবহারের মাধ্যমে তারা প্রণালি পার হয়েছে। এতে করে বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
শনিবার (০৪ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই রুটটি আন্তর্জাতিক জলসীমা এড়িয়ে ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার ভেতর দিয়ে গেছে। এর ফলে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে তুলনামূলক নিরাপদ পথ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। মার্শাল আইল্যান্ডস পতাকাবাহী ‘হাবরুত’ ও ‘ধালকুট’ নামের দুটি তেলবাহী সুপার ট্যাংকার এবং পানামা পতাকাবাহী ‘সোহর’ এলএনজি জাহাজ এই রুট ব্যবহার করেছে। তাদের সঙ্গে ছিল ভারতীয় পতাকাবাহী এমএসভি কিউবা এমএনভি ২১৮৩ নামের একটি কার্গো জাহাজ।
এনডিটিভি জানিয়েছে, জাহাজগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলের কাছাকাছি থেকে ওমানের জলসীমায় প্রবেশ করে এবং মুসান্দাম উপদ্বীপের কাছে তাদের স্বয়ংক্রিয় সনাক্তকরণ (এআইএস) সিগন্যাল বন্ধ করে দেয়। পরে সেগুলোকে মাস্কাট উপকূল থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে সনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ‘হাবরুত’ ও ‘ধালকুট’ জাহাজ দুটি যথাক্রমে সৌদি আরব ও আমিরাতের প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল বহন করছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও হামলার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। বিশ্বে মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংকটের মধ্যে ইরান একটি বিকল্প রুট চালু করেছে। এটি তাদের নিজস্ব জলসীমার ভেতর দিয়ে গেছে এবং কেশম ও লারাক দ্বীপের মাঝ দিয়ে অতিক্রম করেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই পথে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোকে বিশেষ অনুমতি নিতে হচ্ছে এবং তেলের পরিমাণ অনুযায়ী শুল্কও আরোপ করা হচ্ছে।
আজকালের খবর/বিএস