রবিবার ২৯ মার্চ ২০২৬
ট্রাম্পের ইরানে হামলা ১০ দিন বিলম্বের ঘোষণায় কমল তেলের দাম
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১:৫৫ পিএম   (ভিজিট : )
ইরানের জ্বালানি ও তেল অবকাঠামোগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার সময়সীমা ১০ দিন পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের এই আকস্মিক বার্তার পর বিশ্ববাজারে টানা কয়েকদিন ধরে বাড়তে থাকা তেলের দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। 

শুক্রবার (২৭ মার্চ) লেনদেন শুরু হতেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সাময়িক পতন বৃহস্পতিবারের বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধিকে পুরোপুরি সামাল দিতে পারেনি। ইরান যুদ্ধ ধারণার চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী এবং বিধ্বংসী হতে পারে—এমন ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই বিনিয়োগকারীরা এখন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত আড়াইটার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৩ দশমিক ০৭ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, আমেরিকার বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেল প্রতি ১০৬ দশমিক ১২ ডলারে। 

আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এই যুদ্ধকালীন সময়ে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম সামগ্রিকভাবে প্রায় ৫০ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই তেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ১০ দিনের আল্টিমেটাম মূলত তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে ইরানকে তাদের ১৫ দফা শর্ত মেনে নেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। যদি এই সময়ের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয় বা আলোচনায় বসতে রাজি না হয়, তবে মার্কিন বাহিনী তাদের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেল শোধনাগারগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে। 

তেলের বাজারে এই সাময়িক দরপতন মূলত যুদ্ধের একটি বড় ধাক্কা এড়ানোর প্রত্যাশা থেকে তৈরি হয়েছে। তবে লজিস্টিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন না আসলে এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকলে তেলের দাম আবারও ১১০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো এবং এশীয় আমদানিকারক দেশগুলো এই ১০ দিনের বিরতিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। চীন ও ভারতের মতো বড় দেশগুলো এই সময়ে তাদের তেলের মজুত বাড়ানোর চেষ্টা করছে, কারণ হামলা শুরু হলে জোগান পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। 

আইইএ প্রধান ফাতিহ বিরোল গত সোমবারই সতর্ক করেছিলেন, বিশ্ব গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। ট্রাম্পের এই সময় বাড়ানোর ঘোষণা কূটনৈতিক আলোচনার জন্য একটি ক্ষীণ সুযোগ তৈরি করলেও, যুদ্ধের ময়দানে উভয় পক্ষই তাদের শক্তিবৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। ফলে তেলের বাজারে এই স্থিতিশীলতা কতক্ষণ টিকে থাকবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়ে গেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

আজকালের খবর/ এমকে







আরও খবর


Advertisement
সর্বশেষ সংবাদ
মোংলায় জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ড ও নৌ বাহিনীর যৌথ অভিযান
১১ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ
মোটরসাইকেলে অতিরিক্ত জ্বালানি নিতে নিষেধ করলেন সিরাজগঞ্জের ইউএনও
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
রাষ্ট্রীয় শোক ছাড়াই ‘মুখ ও মুখোশ’ গায়িকা চিরনিদ্রায় শায়িত
উৎসবের কফিনে রাষ্ট্রীয় সিলমোহর: লাশের মিছিলে ঈদ মোবারক!
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft