গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর এলাকায় প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সড়ক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মান নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং নির্মাণ কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এনেছে।
ঘটনার পর বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতির প্রমাণ মেলায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ ও প্রকৌশলী শামসুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নিম্নমানের কাজ বা অনিয়ম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এ ঘটনায় নতুন করে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়াও চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্বল মাটির ওপর যথাযথ ভিত্তি ও পাইলিং ছাড়া সড়ক নির্মাণ করায় এই ধস নেমেছে। তদারকির ঘাটতিও ছিল স্পষ্ট। যদিও অভিযুক্ত প্রকৌশলীরা দাবি করেছেন, প্রাকৃতিক কারণ ও ভূ-প্রকৃতির প্রভাবও এ ঘটনার পেছনে থাকতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, টেকসই অবকাঠামো নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এখন তদন্ত প্রতিবেদনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
আজকালের খবর/ এমকে