পবিত্র রমজানের দ্বিতীয় দিনে ইবাদত-বন্দেগিতে মুখর হয়ে উঠেছে ফুলগাজী উপজেলা। সাহরি থেকে শুরু করে ইফতার ও তারাবির নামাজ পর্যন্ত ধর্মীয় আবহে দিন পার করছেন রোজাদাররা। ফজরের নামাজের পর অনেক মসজিদে কোরআন তেলাওয়াত ও আলোচনা মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উপজেলায় প্রায় ৪০০টি মসজিদে নিয়মিত তারাবির নামাজ আদায় হচ্ছে। কোথাও ২০ রাকাত তারাবি, কোথাও খতমে তারাবির আয়োজন—সব মিলিয়ে ধর্মীয় আবহ আরও গাঢ় হয়েছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক স্থানে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী দল মুসল্লিদের সারিবদ্ধভাবে নামাজ আদায়ে সহায়তা করছে।
রমজানকে ঘিরে সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে উপজেলার জিএমহাটে নুরপুর গ্রামে ১১০ পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী প্রদান করেন এআরএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুর রহমান মজুমদার খোকন।
এছাড়াও বিভিন্ন মসজিদভিত্তিক কমিটির উদ্যোগে গরিব ও দুস্থদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিদিন পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, রমজান উপলক্ষে বাজারে ইফতার সামগ্রীর চাহিদা বেড়েছে। ছোলা, বেগুন, পেঁয়াজ, খেজুর, মুড়ি ও চিনি কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতারা। বিকেলের দিকে বাজারগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ইফতার ক্রয় করতে আসা স্থানীয় বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী একরামুল হক বলেন, আলহামদুলিল্লাহ রমজানের ২য় রোজায় ইফতার ক্রয় করতে এসেছি। তবে এ বছর জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক না বাড়লেও সরকারের উচিত দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা। তিনি ইফতার করতে ২০ টাকার ছোলা, ২০ টাকার পেয়াজু ও বেগুনি, ২০ টাকার জিলাপি এবং ১০ টাকার মুড়ি ক্রয় করেন।
ইফতার সামগ্রী নিয়ে নিজ হোটেলের সামনে ভ্রামমান দোকান বসিয়ে বিভিন্ন মজাদার খাবার বিক্রি করছেন খুরশিদ আলম। তিনি বলেন, জিনিসপত্রের দাম অনুযায়ী এখন তেমন ব্যবসা হয় না। এছাড়াও অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর কাস্টমারও অনেক কম।
বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহরিয়া ইসলাম বলেন, বাজারের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখতে প্রতিদিনই আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও সচেতনামূলক পরামর্শ অব্যাহত রেখেছি। আমাদের লক্ষ্য জরিমানা বা শাস্তি নয়, আমরা চাই মানুষ সচেতন হউক। ভোক্তা যেন কোনভাবেই না ঠকে। তিনি বলেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত দাম আদায় বা মজুতদারির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
রোজাদারদের প্রত্যাশা—রমজানের পবিত্রতা বজায় রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। অনেকেই বলেন, সংযম ও আত্মশুদ্ধির এই মাসে ব্যবসায়ীদেরও নৈতিকতা ও মানবিকতার পরিচয় দেওয়া উচিত।
রমজানের দ্বিতীয় দিনে ফুলগাজীজুড়ে একদিকে যেমন ইবাদতের আবহ বিরাজ করছে, অন্যদিকে তেমনি সংযম, সহমর্মিতা ও মানবিকতার চর্চা চোখে পড়ছে সর্বত্র। ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্রশাসনিক তৎপরতায় এক সুশৃঙ্খল রমজানের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কাওছার আল হাবীব/আজকালের খবর