কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে জয় পেয়ে ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। এর মাধ্যমে তিনি কুমিল্লার রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। স্বাধীনতার পর এ জেলায় কোনো নেতা ছয়বার এমপি হতে পারেননি।
১৫৯টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলে কায়কোবাদ পেয়েছেন ১,৫৮,০৯৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইউসুফ সোহেল (দাড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১,০৪,৫৮০ ভোট। ৫৩,৫১৩ ভোটের ব্যবধানের এই জয়কে স্থানীয় বিশ্লেষকরা স্পষ্ট গণরায় হিসেবে দেখছেন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৭২৬ জন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লার বিভিন্ন আসনে একাধিক নেতা চার বা পাঁচবার নির্বাচিত হওয়ার নজির থাকলেও ছয়বারের রেকর্ড এবারই প্রথম। কুমিল্লা-১১ ও সাবেক কুমিল্লা-১২ (চৌদ্দগ্রাম) আসন থেকে পাঁচবার নির্বাচিত হন সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব। কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসন থেকে পাঁচবার জয় পান অধ্যাপক আলী আশরাফ।
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসন থেকে চারবার নির্বাচিত হন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসন থেকে চারবার জয় পান এম কে আনোয়ার। কুমিল্লা-৬ (সদর) আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হন আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এবং কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসন থেকে চারবার জয় পান আব্দুল মতিন খসরু। তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে এবার একক উচ্চতায় কায়কোবাদ।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন জোর আলোচনা—বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করলে সেখানে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে কায়কোবাদের নাম বিবেচনায় আসতে পারে। অতীতে তিনি ধর্ম বিষয়ক ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার কারণে এ মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য দায়িত্বশীল মুখ হিসেবে তার নাম উচ্চারিত হচ্ছে।
কায়কোবাদের রাজনৈতিক জীবন চার দশকেরও বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত। ১৯৮৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৮৮, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে জয় পান। ২০১৬ সালে তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ১৯৮৯ সালে জাতীয় সংসদের হুইপ এবং ১৯৯০ সালে ধর্ম বিষয়ক ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও মামলার জটিলতা পেরিয়ে এবারের নির্বাচনে মাঠে নেমে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়াকে তার সমর্থকরা “জনআস্থার প্রত্যাবর্তন” হিসেবে দেখছেন। ছয়বারের এই বিজয়ের পর কুমিল্লা ও জাতীয় রাজনীতিতে তার ভূমিকা কীভাবে নির্ধারিত হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
আজকালের খবর/ এমকে