সোমবার ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বললেন ইউরোপীয় নেতারা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:০১ পিএম
গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রস্তাবের বিরোধিতা করায় ইউরোপের আট মিত্র দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই ঘোষণার পর ইউরোপীয় নেতাদের কাছ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ সিদ্ধান্তকে ‘সম্পূর্ণ ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, এ ধরনের হুমকি ‘গ্রহণযোগ্য নয়’।

ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। পরবর্তী সময়ে এই হার ২৫ শতাংশে উন্নীত হতে পারে এবং গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে ‘চুক্তি’ না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসা উচিত। প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি।

এই হুমকির পর রোববার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের রাষ্ট্রদূতরা অংশ নেন। একই সময়ে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে হাজার হাজার মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন।

ভৌগোলিকভাবে উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা গ্রিনল্যান্ড জনসংখ্যায় কম হলেও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং আর্কটিক অঞ্চলে নৌযান পর্যবেক্ষণের দিক থেকেও এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, গ্রিনল্যান্ড তিনি ‘সহজ উপায়ে অথবা কঠিন উপায়ে’ পাবেন। তার এই মন্তব্য নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়ে ইউরোপের দেশগুলো বলছে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ন্যাটোর সম্মিলিত দায়িত্ব। এই যুক্তিতে ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য গ্রিনল্যান্ডে সীমিত সংখ্যক সেনা পাঠিয়েছে, যাকে ‘পর্যবেক্ষণমূলক মিশন’ বলা হচ্ছে।

শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প এসব দেশকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক খেলা’ খেলছে বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, বিষয়টি এখন ‘পৃথিবীর নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও অস্তিত্বের’ প্রশ্ন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ন্যাটো মিত্রদের সম্মিলিত নিরাপত্তা প্রচেষ্টার জবাবে শুল্ক আরোপ করা সম্পূর্ণ ভুল। যুক্তরাজ্য এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবে। যুক্তরাজ্যের বিরোধী দলগুলোর নেতারাও ট্রাম্পের ঘোষণার সমালোচনা করেছেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, এই প্রেক্ষাপটে শুল্কের হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ইউরোপ কোনো ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনে নতি স্বীকার করবে না। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন বলেছেন, তার দেশ ব্ল্যাকমেইলের কাছে মাথা নত করবে না এবং যৌথ প্রতিক্রিয়া খুঁজতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন এক বার্তায় বলেন, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি। শুল্ক আরোপ আটলান্টিকপাড়ের সম্পর্ককে দুর্বল করবে এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস বলেন, মিত্রদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে চীন ও রাশিয়া। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা বলেন, আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন সব সময় দৃঢ় অবস্থান নেবে।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লকে রাসমুসেন বলেন, শুল্কের এই হুমকি তাদের জন্য বিস্ময়কর। জার্মান ইউরোপীয় সংসদ সদস্য ও রক্ষণশীল ইউরোপীয় পিপলস পার্টির নেতা মানফ্রেড ভেবার বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ দাবি করেছেন, উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চলে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালনের মতো সক্ষমতা ডেনমার্কের নেই। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ছায়াতলে থাকলে গ্রিনল্যান্ডবাসীর জীবন আরও নিরাপদ ও সমৃদ্ধ হবে।

গ্রিনল্যান্ডে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিরোধিতা করছেন। শনিবার গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক ও ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে বিক্ষোভ হয়। কোপেনহেগেনে বিক্ষোভকারীরা ‘গ্রিনল্যান্ড থেকে হাত সরাও’ এবং ‘গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীর’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

নুক শহরে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স–ফ্রেদেরিক নিলসেন নিজেও বিক্ষোভে অংশ নেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের দিকে মিছিল নিয়ে যান প্রতিবাদকারীরা। একই সময়ে ডেনমার্ক সফররত যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের এক প্রতিনিধিদলের প্রধান, ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘গঠনমূলক নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।


আজকালের খবর/ এমকে








http://ajkalerkhobor.net/ad/1751440178.gif
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থনীতি আর ভঙ্গুর অবস্থায় নেই, রিজার্ভ এখন ৩২ বিলিয়ন: অর্থ উপদেষ্টা
পোস্টাল ব্যালটে একজনের ভোট অন্য কেউ দেওয়ার সুযোগ নেই: ইসি সানাউল্লাহ
তারেক রহমানের সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
২১ জানুয়ারি থেকে মার্কিন ভিসার জন্য অনুমোদিত হলে ভিসা বন্ড দিতে হবে
বাংলাদেশ ইস্যুতে নিজেদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি স্থগিত করল পাকিস্তান
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সাতক্ষীরার সাংবাদিকদের সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান পিআইবি মহাপরিচালকের
দ্বৈত নাগরিকত্ব : ইসির নমনীয়তায় সুখবর পেলেন ২০ প্রার্থী
চীনের সম্মতি পেলেই শুরু হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ: সৈয়দা রিজওয়ানা
ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকরা নির্বাচনের সুযোগ পেলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি এনসিপির
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি জসিম উদ্দিনের মৃত্যু
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft