সোমবার ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
এক দশক পর জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩০ এএম
প্রায় এক দশক পর মিয়ানমারের ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের গণহত্যা মামলার বিচার শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজি)। জাতিসংঘের এই আদালত ‘বৈশ্বিক আদালত’ (ওয়ার্ল্ড কোর্ট) নামেও পরিচিত।

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে জাতিসংঘের আদালতের অবস্থান। আজ সোমবার দেশটির স্থানীয় সময় বেলা ১০টা থেকে (বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা)  মামলার শুনানি শুরু হবে। আগামী ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে এই শুনানিপর্ব।

জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত যে মামলাটি নথিবদ্ধ করা হয়েছিল, সেই মামলার তদন্তকারী দল ‘ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’-এর প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে বাংলাদশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে বোমা হামলা হয়েছিল। সশস্ত্র রোহিঙ্গাগোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-কে এই হামলার জন্য দায়ী করে মিয়ানমারের সরকার। পরে এ হামলার জের ধরে ওই মাসেই বাংলাদেশ- মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

অভিযানের নামে সাধারণ রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে বর্মী সেনাবাহিনীর লাগাতার হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের সামনে টিকতে না পেরে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশে পালাতে শুরু করে। বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন সে সময়। তারা এখনও বাংলাদেশেই আছেন।

২০১৭ সালে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানের পরপরই জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী দল এ ঘটনার তদন্ত করেছিল। সেই দলের তদন্ত প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর অভিযানকে ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দলের সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই ২০১৯ সালে বৈশ্বিক আদালতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলা করেছিল পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিায়া। সেই মামলারই শুনানি শুরু হচ্ছে সোমবার।

মিয়ানমারে যখন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছিল, সে সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অং সান সুচি। জাতিসংঘের অনুসন্ধানি দলের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। গাম্বিয়া যখন মামলা করে, তখনও সেই মামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সুচি বলেছিলেন, গাম্বিয়ার অভিযোগ ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’।

২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন সুচি এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকার। বর্তমানে মিয়ানমারের কারাগারে আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে সেনাবাহিনীর আদালতে তার বিচার চলছে।

বৈশ্বিক আদালতে দায়ের কৃত রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা নিকোলাস কৌজিমান রয়টার্সকে বলেন, “গণহত্যার প্রকৃত সংজ্ঞা কী, কীভাবে গণহত্যা সম্পর্কিত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করা যায়ে এবং কীভাবে এ ধরনের অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়— এসবের নিষ্পত্তিতে এই মামলা একটি নজির হয়ে থাকবে।”

সূত্র : রয়টার্স

আজকালের খবর/ এমকে








http://ajkalerkhobor.net/ad/1751440178.gif
সর্বশেষ সংবাদ
যমুনায় যাচ্ছেন এনসিপি নেতারা
আমিরাতে শাবানের চাঁদ দেখা গেছে, রমজানের দিন গণনা শুরু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় রোডম্যাপ প্রকাশ
এস আলম ও পিকে হালদারসহ ১৩ জনের বিচার শুরু
কুমিল্লা-৩ আসনে কায়কোবাদের প্রার্থিতা বহাল
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সাতক্ষীরার সাংবাদিকদের সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান পিআইবি মহাপরিচালকের
দ্বৈত নাগরিকত্ব : ইসির নমনীয়তায় সুখবর পেলেন ২০ প্রার্থী
চীনের সম্মতি পেলেই শুরু হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ: সৈয়দা রিজওয়ানা
ব্যালট পেপার ও কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে শঙ্কা: ইসি ভবন ঘেরাও ছাত্রদলের
‘নতুন অন্তর্বর্তী সরকার এলে ভোটে যেতে প্রস্তুত আওয়ামী লীগ’
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft