প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:০৪ পিএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটি এলাকায় টানা তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে তিতাসের গ্যাস সরবরাহ। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে রান্নাবান্না। ভুক্তভোগীরা জানান, কবে নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য মিলছে না।
মগবাজারের পাশাপাশি মোহাম্মদপুর , ইস্কাটন গার্ডেন, হাতিরপুল, সেন্ট্রাল রোড, কাঁঠালবাগান, পুরান ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, গোপীবাগসহ রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় একই ধরনের গ্যাস সংকট দেখা গেছে। এতে বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন অনেকে।
বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪১০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৫০ থেকে ২৬০ কোটি ঘনফুট। এই বিপুল ঘাটতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শীতকাল ও পাইপলাইনের সমস্যা।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শীত মৌসুম এলেই রাজধানীতে গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে চলতি সপ্তাহে বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশে একটি বিতরণ পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সংকট তীব্র হয়েছে। তিতাস গতকাল জানিয়েছে, মেরামতকালে পাইপলাইনের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। এতে ঢাকামুখী গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের স্বল্পচাপ দেখা দিয়েছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতেও। বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন কমে গেছে প্রায় অর্ধেকে। পাশাপাশি রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা যাচ্ছে গাড়ির দীর্ঘ সারি।
তিতাসের অপারেশন বিভাগের এক শীর্ষ প্রকৌশলী জানান, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার বিবেচনায় শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানায় আগে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হচ্ছে। এ কারণে আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তি বেশি।
তবে চলমান সংকট সম্পর্কে গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। সাময়িক ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তারা।
এলপিজি বিক্রি বন্ধ, চট্টগ্রামে ভোগান্তি
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, এমনিতেই এলপিজির সরবরাহে সংকট চলছিল। তার ওপর গতকাল থেকে বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ থাকায় প্রচণ্ড ভোগান্তিতে পড়েছেন গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারকারী, হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ডাকে গতকাল সকাল থেকেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন ডিলার পয়েন্ট ও খুচরা দোকানে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ দেখা গেছে।
নগরের একাধিক দোকানদার জানিয়েছেন, সমিতির নির্দেশনা অনুযায়ী তারা সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি দুটিই বন্ধ রেখেছেন। সিলিন্ডার না পেয়ে লাকড়িতে বিভিন্ন ছোট ছোট হোটেলে রান্না করতে দেখা যায়। বিভিন্ন পরিবার ইলেকট্রিক
চুলায় রান্না করে প্রয়োজন মিটিয়েছেন। অবশ্য এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আজকালের খবর / এমকে