বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া বা নির্বাচন প্রক্রিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচন দেশের জনগণের অধিকার, আর খালেদা জিয়া সারাজীবন সেই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই সংগ্রাম করে এসেছেন।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আমীর খসরু বলেন, বেগম জিয়ার অসুস্থতা আগামী জাতীয় নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না। গণতান্ত্রিক নির্বাচন ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য সবচেয়ে বেশি লড়াই করেছেন তিনি, আর জনগণের ভোটের মাধ্যমেই সরকার নির্ধারণ হবে—এটাই ছিল তার চাওয়া।
তিনি জানান, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি বিএনপি ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের সবুজ সংকেত পেলেই তাকে লন্ডনে পাঠানো হবে।
বিএনপির এই নীতিনির্ধারক নেতা আরও বলেন, বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও এর সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন স্থগিতের কোনো সম্পর্ক নেই। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং স্বচ্ছ নির্বাচন—এগুলোই খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের মৌলিক মূল্যবোধ হিসেবে কাজ করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নানা অপপ্রচার চলছে, তবে জনগণ এসব খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছে।
আমীর খসরু আরও বলেন, বিএনপির গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে এবং থাকবে। নির্বাচন যেন সময়মতো, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হয়—সেটাই বিএনপির প্রত্যাশা।
সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জনগণ আজ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তাই কোনো অজুহাত তুলে নির্বাচন বিলম্ব করা বা অনিশ্চয়তা তৈরি করা উচিত নয়। বেগম জিয়ার অসুস্থতাকে এই প্রসঙ্গে যুক্ত করাও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সুশাসন ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার আন্দোলনে বেগম জিয়া সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। তার স্বাস্থ্যগত অবস্থার সঙ্গে নির্বাচন পেছানোর যুক্তি মেলানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দলীয় নেতাকর্মীদের দোয়া ও চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় বেগম জিয়া দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।
আজকালের খবর/বিএস