সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন সুইড রমনা শাখা পরিচালিত রমনা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্কুলটির শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা।
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় ইস্কাটনে অবস্থিত বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, সুইড বাংলাদেশের মেন্টর মামুনের নেতৃত্বে একটি চক্র বিদ্যালয়ের মাঠ ও আঙ্গিনা জোরপূর্বক দখল করে হোটেল ও ডেকোরেটর কোম্পানিকে ভাড়া দিয়েছেন। এই বিদ্যালয়ে কোন বাণিজ্যিক ব্যবহারের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তারা বলছেন, এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট নিষ্পতি দিয়েছিল ২০১৬ সালে। সেটি অমান্য করে এখন দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
সুইড বাংলাদেশ রমনা শাখার সভাপতি সাজেদা হুমায়ূন কবীর বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের অন্তর্গত ৭৪টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের একটি সুইড বাংলাদেশ রমনা শাখা পরিচালিত রমনা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়।
দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্তে, বর্তমানে যেখানে প্রতিটি সেক্টরে প্রতিটি ক্ষেত্র দখলমুক্ত হচ্ছে, সেখানে সুইড বাংলাদেশের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী দুই নম্বরী চিন্তাভাবনা বাস্তবায়ন ও অর্থলোপাটের জন্য রমনা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের জমি দখলের পায়তারা করছে।
যেখানে সবার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার চিন্তাভাবনা করছেন, সেখানে মেন্টর জওয়াহেরুল ইসলাম মামুনের নেতৃত্বে সুইড বাংলাদেশের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্থ চিন্তাভাবনা বাস্তবায়নের জন্য রমনা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেনী কক্ষ জোরপূর্বক দখল করে ডেকোরেটর ভাড়া দিয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা পরিবেশে ভাতের হোটেল বানিয়েছে। সুইড বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের অর্থলিপ্সু কর্মকর্তারা বরাবরই এই কাজটি করে এসেছে। তাদের আসল উদ্দেশ্য সুইড বাংলাদেশ রমনা শাখা পরিচালিত রমনা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের পুরো জায়গা দখল করা।
সাজেদা অভিযোগ করে বলেন, ’সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা ২০১৯’-এর অনুচ্ছেদ (২) এর উপ অনুচ্ছেদ(৫) এর নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রনালয়ের অধীনে পরিচালিত প্রতিটি বিদ্যালয়ের স্থাবর –অস্থাবর সম্পত্তি ঐ বিদ্যালয়ের সম্পত্তি বলে বিবেচিত হবে। এর আগে ২০০৬ সালে ডোমিনো নামক এক ডেভেলপার কোম্পানী দিয়ে দখল করতে চেয়েছিল। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুইড বাংলাদেশ রমনা শাখার কর্মকর্তাদের প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের মুখে সবসময়ই পিছু হটেছে। কখনই পুরোপুরি দখল করতে পারেনি। এই জায়গাটি নরওয়ের আর্ন্তজাতিক সংস্থা ঘঋচট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বিশেষ শিক্ষা ও পুর্নবাসনের জন্য দান করলেও এখন স্কুলের পাশাপাশি সুইড বাংলাদেশের ভাড়াটিয়া লাভলী ডেকোরেটর তাদের রান্নাঘর ও ভাতের হোটেল দিয়ে রেখেছে। এখানে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের ভাড়াটিয়ারা যা ইচ্ছা তা করে বেড়াচ্ছে।
রমনা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা পারভীন বলেন, প্রতিবন্ধী ও অটিজম শিশুরা এখানে পড়াশোনা করছে তাদের মানসিক বিকাশে স্কুলের মাঠে খেলাধুলা করে। এই মাঠ দখলের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। আমরা চাই এখানে শিশুদের ক্লাস রুম ও খেলার মাঠ দখলের যে পায়তারা চলছে সেটি বন্ধ করা হোক।
তিনি বলেন, স্কুলের ভিতরে খাবার হোটেলের রান্না হচ্ছে। বড় বড় গ্যাস সিলিন্ডার আছে সেখানে। এখানে শিশু গুলো বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যে কোন সময়ে না বুঝে সেখানে চলে গেলে বা কোন বিপদ ঘটলে এই দায় কে নিবে?
আনোয়ার হোসেন নামের স্কুলের এক অভিভাবক বলেন, আমাদের সন্তানরা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি তারা স্বাভাবিক শিশুদের মত ইন্ডোর বা মোবাইলে গেমস খেলে অভ্যস্থ নয়। তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে খেলাধুলা অতীব জরুরি। ক্লাস শেষে তাদের খেলাধুলার জন্য মাঠ প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে আমাদের অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এই দখলের চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাই ও আগামীতে প্রয়োজনে মাঠে থেকে প্রতিবন্ধি শিশুদের অধিকার আদায়ের চেষ্টা করব।
আজকালের খবর/ওআর