
* প্রিমিয়ার হয়েছিলো ব্যাটলশিপ পটেমকিনের/
* প্রথম ফরাসি নির্বাক চলচ্চিত্র ‘জর্জেট’ প্রদর্শিত/
* প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘রোড টু লাইফ’ প্রদর্শিত/
* লিও তলস্তয় এই সিনেমা হলটি পরিদর্শন করেছিলেন/
* বৃহৎ সিনেমা হলটি এখন চারটি স্ক্রিন
আজকাল মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে দর্শক টানতে যে ধরনের সুযোগ সুবিধার প্রতিশ্রুতি বা পরিষেবা দেওয়ার রীতি চালু হয়েছে, তা শত বছর আগে তৎকালীন সোভিয়েট রাশিয়ার মস্কোতে চালু হয়েছিলো। সালটা ১৯০৯। এ বছর কিংবদন্তিতুল্য ‘খুদোজভেস্তভেনি’ (Khudozhestvenny) চালু হয়। শুরু থেকেই হলটি অনন্যস্থান হিসেবে পরিচিতি পায়। এতে প্রথম ফরাসি নির্বাক চলচ্চিত্র ‘জর্জেট’ দেখানো হয়। পরবর্তীতে এখানেই সের্গেই আইজেনস্টাইনের মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র ‘ব্যাটলশিপ পটেমকিন’-এর বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছিল সোভিয়েট রাশিয়ায়। এরপর প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পেরিয়ে সোভিয়েট রাশিয়ার পতনেরও সাক্ষী এই হলটি এখনো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে। বলা হচ্ছে এটিই বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সিনেমা হল। কেবল আকার বা আকৃতি নয় বরং বেশ কিছু বৈশিষ্ট নিয়ে ভিজ্যুয়াল নন্দন তত্ত্বকে আরো শানিত করছে। আজ আমরা প্রাচীন এই সিনেমা হলের আদ্যাপান্ত জানার চেষ্টা করবো।
১. বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সিনেমা হল
বর্তমান রাশিয়ার আরবাত স্কোয়ারে অবস্থিত ‘খুদোজভেস্তভেনি’ (Khudozhestvenny) সিনেমা হলটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং এখনো সচল একটি প্রেক্ষাগৃহ। ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৭০-এর দশকের স্থবিরতার যুগ এবং ১৯৮০-র দশকের উত্তাল ‘পেরেস্ত্রোইকা’ (Perestroika) বা সংস্কারের সময়কাল- এসবের মধ্য দিয়েও টিকে আছে এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাগৃহটি।
এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ১৯০৯ সালের ১০ নভেম্বর চালু হয়। শুরুতে এর নাম ছিল ‘আর্ট ইলেকট্রো-থিয়েটার’ এবং পরদিনেই এখানে প্রথম চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। মরিস ডি ফেরাউডি পরিচালিত ফরাসি নির্বাক চলচ্চিত্র ‘জর্জেট’ দেখার জন্য দর্শকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিলেন। শুরুর দিকের প্রদর্শনীগুলো ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত মাত্র ১৫ মিনিটের মতো স্থায়ী হতো। ১৯০৯ সালে স্বয়ং ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ (War
and Peace)-এর রচয়িতা লিও তলস্তয় এই সিনেমা হলটি পরিদর্শন করেছিলেন।
২. অনন্য নকশা শৈলী উপস্থাপন
সিনেমা হলটির মূল নকশা করেছিলেন রুশ স্থপতি নিকোলাই ব্লাগোভেশচেনস্কি। এটি ছিল একটি একতলা ভবন, যার প্রবেশকক্ষে একটি গম্বুজ ও আলোকোজ্জ্বল ফোয়ারা ছিল। শুরুতে এই সিনেমা হলে প্রায় ৪০০ দর্শকের বসার ব্যবস্থা ছিল।
চালু হওয়ার চার বছর পর, রুশ চলচ্চিত্র নির্মাতা ও উদ্যোক্তা আলেকজান্ডার খানঝনকভ সিনেমা হলটি কিনে নেন। ততদিনে এটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, মস্কোর বিচক্ষণ দর্শকরা চলচ্চিত্র দেখার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী; তাই আসনসংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে হলটি সম্প্রসারণের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
১৯১৩ সালে মস্কোর ‘আর্ট নুভো’ ধারার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ও স্থপতি ফিওদর শেখতেলের নকশা অনুযায়ী ভবনটি পুনর্র্নিমাণ করা হয়।
‘খুদোজহেস্তভেনি’ প্রেক্ষাগৃহটি সংস্কার ও আধুনিকীকরণ করা হয়েছিল। এর সম্মুখভাগটি ধ্রুপদী শৈলীতে নকশা করা হয়েছিল। এখানে বাষ্প-চালিত তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (স্টিম হিটিং সিস্টেম) স্থাপন করা হয় এবং ভবনের ছাদে ফিল্ম রিলের স্তূপ রাখার জন্য একটি বিশেষ কক্ষ তৈরি করা হয়। প্রবেশপথের হলঘরটি ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি, মার্বেল পাথরের স্তম্ভ এবং পাম গাছ দিয়ে সাজানো হয়েছিল। প্রতিটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আগে সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেতারা সরাসরি পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের স্বাগত জানাতেন।
প্রেক্ষাগৃহটির দর্শক ধারণক্ষমতা দ্বিগুণ করা হয়, যার ফলে এটি প্রায় ৯০০ দর্শকের জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়। মঞ্চনাটকের প্রেক্ষাগৃহের মতোই, সবচেয়ে ভালো আসনগুলো বরাদ্দ থাকত বিশিষ্ট অতিথিদের জন্য। মস্কোর বুদ্ধিজীবী ও অভিজাত শ্রেণির মানুষ সাধারণত নিচের সারির আসনগুলোতে (স্টল) বসতেন, আর সবচেয়ে দরিদ্র দর্শকরা বসতেন একেবারে ওপরের দিকের দূরবর্তী আসনগুলোতে।
প্রদর্শিত চলচ্চিত্রের তালিকা বা পরিসরও বৃদ্ধি পেয়েছিল। ১৯১৪ সালে ‘খুদোজহেস্তভেনি’-তে প্রায় ১৫টি স্বল্পদৈর্ঘ্যের নির্বাক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হতো।
১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের সময় এই প্রেক্ষাগৃহটিকে ‘রেড আর্মি’র হাতে আটক বন্দিদের জন্য একটি আটক বা কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প বা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
১৯১৯ সালে ভøাদিমির লেনিন ‘ফটোগ্রাফিক ও চলচ্চিত্র ব্যবসা এবং শিল্পকে শিক্ষা বিষয়ক গণ-কমিশারিয়েটের (People-s
Commissariat for Education