চোখের নিচে কালো দাগ বা ডার্ক সার্কেল এখন অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। ব্যস্ত জীবন, মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং ক্লান্তির কারণে এই সমস্যা আরও বাড়ে। অনেকেই প্রসাধনী দিয়ে সাময়িকভাবে দাগ ঢাকার চেষ্টা করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রসাধনী ব্যবহার করলেই এই সমস্যা দূর হয় না। এর পাশাপাশি প্রয়োজন সঠিক যত্ন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির কারণেই চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে। তাই প্রথমেই মানসিক চাপ কমানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। শরীর ভালো থাকলে চোখের চারপাশের ত্বকও সুস্থ থাকে।
চোখের চারপাশের ত্বক মুখের অন্য অংশের তুলনায় অনেক বেশি কোমল। তাই প্রতিদিন সকাল ও রাতে মুখ পরিষ্কার করে চোখের নিচে উপযুক্ত যত্নের প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত। দিনের বেলায় রোদে বের হলে রোদ থেকে সুরক্ষার প্রসাধনী ব্যবহার এবং চোখে রোদচশমা পরারও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
অনেকেই মুখ পরিষ্কার করতে ভেজা টিস্যু ব্যবহার করেন। তবে এতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে চোখের চারপাশে বেশি চাপ দিয়ে ঘষাঘষি করা উচিত নয়। এর পরিবর্তে পরিষ্কার পানিতে ভেজানো তুলা দিয়ে আলতোভাবে চোখের চারপাশ পরিষ্কার করা নিরাপদ।
চোখের সাজ নেওয়ার আগে এবং সাজ তুলে ফেলার পরও চোখের নিচের ত্বকের যত্ন জরুরি। চোখের নিচের কালো দাগ ঢাকার আগে ত্বক ভালোভাবে আর্দ্র রাখতে হবে। আবার সাজ তোলার সময় জোরে ঘষাঘষি না করে পরিষ্কার করার তেল বা মলম ব্যবহার করে নরম কাপড় দিয়ে আলতোভাবে মুছে ফেলতে হবে।
ঘরোয়া কিছু উপায়ও এই সমস্যায় উপকার দিতে পারে। শসার টুকরো, সবুজ চায়ের ব্যবহৃত থলে কিংবা ঘৃতকুমারীর শাঁস চোখের ওপর ও চারপাশে আলতোভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। নিয়মিত ব্যবহার করলে চোখের নিচের কালো দাগের পাশাপাশি সূক্ষ্ম ভাঁজ কমাতেও এগুলো সহায়ক হতে পারে। চাইলে চোখের নিচের জন্য তৈরি শীতল জেলের মুখোশও ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে শুধু প্রসাধনীর ওপর নির্ভর না করে শরীরের যত্ন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিয়মিত ত্বকের সঠিক পরিচর্যা—এই তিনটি বিষয়েই সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
আজকালের খবর/বিএস