রাজধানী কুয়ালালামপুরে না গিয়েই প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বিশেষ মোবাইল কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমকে ঘিরে শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকেই জোহরের অগ্রণী রেমিট্যান্স হাউসে শত শত প্রবাসীর উপস্থিতি দেখা যায়।
বিশেষ এ কনস্যুলার ক্যাম্পে ই-পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ, বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট, পাসপোর্ট-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমসহ প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা দেওয়া হচ্ছে। রোববার (২৬ জুলাই) একই স্থানে দিনব্যাপী এ সেবা কার্যক্রম চলবে।
জোহরের বিভিন্ন জেলা ও শিল্পাঞ্চল থেকে আসা প্রবাসীরা সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করেন। সেবা নিতে আসা অনেকেই জানান, একটি পাসপোর্ট কিংবা অন্য কোনো কনস্যুলার সেবার জন্য আগে কুয়ালালামপুরে যেতে সময় ও অর্থ—দুই-ই ব্যয় হতো। নিজ রাজ্যেই এ সেবা পাওয়ায় তাদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমেছে।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ের প্রধান ইয়াসিন কবির জানান, মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীর নির্দেশনায় প্রবাসীদের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি ছুটির দিনগুলোতে মোবাইল কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজধানীর বাইরে বসবাসরত প্রবাসীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়েই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মালয়েশিয়ার অন্যান্য রাজ্যেও এ ধরনের বিশেষ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কনস্যুলার ক্যাম্পে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান ইএসকেএলের কর্মকর্তারাও দায়িত্ব পালন করছেন। তারা আবেদন গ্রহণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন।
প্রবাসীদের মতে, রাজধানীর বাইরে নিয়মিত এ ধরনের মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প আয়োজন করা হলে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সরকারি সেবা আরও সহজলভ্য হবে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল ও দূরবর্তী এলাকায় কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য এ উদ্যোগ স্বস্তির পাশাপাশি প্রবাসীবান্ধব সেবার একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
আজকালের খবর/এমকে