২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্ন এখানেই থেমে গেল ব্রাজিলের। শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোল এবং নরওয়ের দুর্দান্ত রক্ষণভাগের সামনে শেষ পর্যন্ত মাথা নত করতে হলো সাম্বা ব্রিগেডকে। ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি আসে নেইমারের পেনাল্টি থেকে। তবে এই হার শুধুমাত্র একটি ম্যাচের ব্যর্থতা নয়, বরং গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে জমে থাকা একাধিক সমস্যারই প্রতিফলন।
আধুনিক ফুটবলে ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নির্ধারণ করে মিডফিল্ড। কিন্তু ব্রাজিল এই জায়গাতেই সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে পড়েছে। বলের দখল ধরে রাখা, আক্রমণ গড়ে তোলা এবং প্রতিপক্ষের ছন্দ নষ্ট করার ক্ষেত্রে ব্রাজিলের মাঝমাঠ ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। নরওয়ের মিডফিল্ডাররা ম্যাচের বড় অংশে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন, যার প্রভাব পড়েছে পুরো দলের পারফরম্যান্সে।
ব্রাজিল একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলোকে গোলে পরিণত করতে পারেনি। প্রথমার্ধে পাওয়া পেনাল্টিও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় তারা। পরে নেইমার গোল করলেও ম্যাচে ফেরার মতো ধারাবাহিক আক্রমণ দেখা যায়নি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কুনহা কিংবা অন্য আক্রমণভাগের ফুটবলারদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট ছিল। বিকল্প কৌশলেরও অভাব চোখে পড়েছে।
নরওয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে সামান্য ভুলও মারাত্মক হয়ে দাঁড়ায়। ব্রাজিলের ডিফেন্স একাধিকবার অবস্থানগত ভুল করেছে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন আর্লিং হালান্ড। বিশেষ করে ট্রানজিশনের সময় রক্ষণভাগে ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়ায় নরওয়ে দ্রুত আক্রমণে উঠে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
নকআউট ম্যাচে চাপ সামলানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পিছিয়ে পড়ার পর ব্রাজিলের ফুটবলারদের মধ্যে তাড়াহুড়ো এবং অস্থিরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ঝুঁকি নেওয়া, ভুল পাস এবং সিদ্ধান্তহীনতা ম্যাচে তাদের আরও সমস্যায় ফেলে। অন্যদিকে নরওয়ে শেষ পর্যন্ত ঠান্ডা মাথায় নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে।
গত কয়েক বছরে ব্রাজিল দলে একাধিক পরিবর্তন এসেছে। নতুন কোচ, নতুন ফুটবলার এবং কৌশলগত রদবদলের কারণে এখনও একটি স্থায়ী ছন্দ তৈরি হয়নি। প্রতিভার অভাব না থাকলেও দলগত বোঝাপড়া ও নির্দিষ্ট ফুটবল দর্শনের ঘাটতি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই হার হয়তো ব্রাজিল ফুটবলের জন্য নতুন করে আত্মসমীক্ষার সুযোগ তৈরি করবে।
আজকালের খবর/কবির