সৌদি আরবে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে হাতে লেখা পাসপোর্টধারী, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অবস্থায় থাকা প্রবাসী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মানবিক ও আইনগত সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
জানা যায়, বহু বাংলাদেশি নাগরিক অনেক বছর আগে হাতে লেখা (Handwritten) পাসপোর্টের মাধ্যমে সৌদি আরবে এসে বৈধভাবে আকামা গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে তাদের আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তারা অবৈধভাবে অবস্থান করতে বাধ্য হন। একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন তাদের অনেক স্ত্রী-সন্তানও। সময়মতো এমআরপি পাসপোর্ট গ্রহণ না করায় এবং বর্তমানে এমআরপি ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ায় তারা নতুন করে নানা জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন।
এছাড়া এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যেখানে মা-বাবার বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র থাকলেও সন্তানদের জন্মের পর ১০ থেকে ২০ বছর বা তারও বেশি সময় পাসপোর্টের আবেদন করা হয়নি। বর্তমানে তারা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে গিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে আবেদন করতে পারছেন না। এতে প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
অন্যদিকে, সৌদি আরবে এমন কিছু ব্যক্তির তথ্যও সামনে এসেছে, যাদের বাংলাদেশি এমআরপি পাসপোর্ট থাকলেও তারা মিয়ানমারের নাগরিক পরিচয়ে আকামা নিয়ে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন। আবার এমনও অনেকে রয়েছেন, যাদের কাছে মিয়ানমারের পরিচয়ে ইস্যুকৃত ভ্রমণ নথি বা আকামা থাকলেও বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার পক্ষে জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, পারিবারিক রেকর্ড, শিক্ষা সনদসহ বিভিন্ন বৈধ প্রমাণপত্র রয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্টদের দাবি, যথাযথ প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে যারা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে দাবি করেন, তাদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা—এনএসআই, ডিজিএফআই, পুলিশ প্রশাসন, এসবি/ডিএসবি, সিআইডি, পিবিআই অথবা প্রয়োজনীয় অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করে প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করা হোক। তদন্তে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে প্রমাণিত হলে তাদের পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিকরা তাদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাবেন, অন্যদিকে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, অনিয়ম ও জালিয়াতির সুযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
প্রবাসীদের দাবি, মানবিক, আইনগত ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও কনস্যুলেট দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
আজকালের খবর/ এমকে