২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকপণ্যের যে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে, তা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত অপর্যাপ্ত ও নামমাত্র সমন্বয় মাত্র। একই সঙ্গে বিড়ি, জর্দা ও গুলের দাম অপরিবর্তিত রাখা এবং হিটেড টোব্যাকো ও নিকোটিন পাউচের দাম নির্ধারণ করে নতুন আসক্তিকর পণ্যের বাজার তৈরির উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান উবিনীগ এবং তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ)।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, প্রতি ১০ শলাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরে ৮০ থেকে ৯২ টাকা, উচ্চস্তরে ১৪০ থেকে ১৬0 টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ১৮৫ থেকে ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। শতাংশের হিসাবে এই মূল্যবৃদ্ধি যথাক্রমে মাত্র ৩.৩%, ১৫%, ১৪.৩% এবং ১৩.৫%।
উবিনীগ ও তাবিনাজ জানায়, গত মে মাসে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৪২ শতাংশ। এই মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করলে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রকৃত মূল্য উল্টো ৫.৬ শতাংশ কমে যাবে। বাকি তিন স্তরেও প্রকৃত মূল্যবৃদ্ধি হবে মাত্র ৩.৭ থেকে ৫.১ শতাংশের মধ্যে। ফলে প্রস্তাবিত এই সামান্য দাম বৃদ্ধিতে সিগারেটের সহজলভ্যতা কমবে না।
সংগঠন দুটি চার স্তরের জটিল কর কাঠামো বহাল রাখা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের মূল্যের ব্যবধান ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে ধূমপায়ীরা ধূমপান ছাড়ার পরিবর্তে আরও সস্তা ব্র্যান্ডের সিগারেট বেছে নেওয়ার (ডাউন-ট্রেডিং) সুযোগ পাবে।
এদিকে জর্দা ও গুলের মূল্য অপরিবর্তিত রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংগঠনগুলো। গ্যাটস (২০১৭) জরিপ অনুযায়ী, দেশের ২০.৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করেন, যার মধ্যে নারীদের হার (২৪.৮%) পুরুষদের (১৬.২%) চেয়ে অনেক বেশি। মূল্যস্ফীতির বাজারে জর্দা-গুলের দাম না বাড়ানোয় নারী ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া বাজেটে প্রতি ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচের দাম ৫০০ টাকা (সম্পূরক শুল্ক ৪০%) এবং প্রতি ১০ শলাকা হিটেড টোব্যাকোর দাম ২১০ টাকা (সম্পূরক শুল্ক ৬৭%) নির্ধারণ করা হয়েছে। উবিনীগ ও তাবিনাজের মতে, নতুন ধরনের এসব ক্ষতিকর তামাকপণ্যের কর নির্ধারণ করে মূলত তরুণদের আসক্ত করার জন্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বাজার তৈরির সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে সুনির্দিষ্ট কর আরোপ, জর্দা ও গুলের মূল্য কমপক্ষে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্য দেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব