দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই দেশের মালিক জনগণ। কতিপয় মানুষ এসে বিভ্রান্তি ছড়াবে আর মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে—এই কাজ আর হতে দেওয়া যাবে না। যারা জনগণের সাথে থাকবে, জনগণের পাশে থাকবে এবং জনগণের জন্য কাজ করবে, বাংলাদেশের জনগণ তাদেরকেই সাথে নিয়ে এই দেশকে রক্ষা করবে।
শনিবার (২৩ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালের বৈলর ইউনিয়নের কানহর এলাকায় ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুপুর ২টা ২১ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছান এবং গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই খালপাড়ে গিয়ে প্রথমেই খনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার জনগণকে সাথে নিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চায়। আজকে সময় এসেছে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজগুলোকে একদিকে সফল করা, আর অন্যদিকে যারা ন্যায়বিচার ও সঠিক বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষকে সজাগ রাখা। তিনি সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজের ক্ষেত-খামার বা নিজের ঘরবাড়ি যেভাবে মানুষ নিজে গড়ে তোলে, দেশটাও ঠিক তেমনি সকলের নিজের। এখানে উপস্থিত প্রত্যেকেই এই দেশের অংশীদার ও মালিক। কাজেই নিজের ঘর ও দেশ নিজেদেরকেই দেখতে হবে। যারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করছে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ময়মনসিংহের ত্রিশালের এই ‘ধরার খাল’ খনন করেছিলেন। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর বাবার খনন করা সেই ঐতিহাসিক খালটিই আজ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রাশেদুজ্জামান মিল্লাত। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ, স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান, সদর আসনের এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মুক্তাগাছা আসনের এমপি মোহাম্মদ জাকির হোসেন, গফরগাঁও আসনের এমপি মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন এবং জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব