প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী পতিত আওয়ামী সরকারের নির্যাতন, নিপিড়ণ ও মামলার শিকার হয়ে কারাবন্দি ছিলেন। বর্তমানে দলটির চেয়ারম্যানের একজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিল্প-সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক ‘নির্মোহ’ বিশ্লেষণ ছাড়াও একজন বাগ্মী হিসেবে তিনি দল এবং সমমনার মাঝে সমাদৃত।
গণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার গঠন করা বিএনপি তারুণ্যকে এগিয়ে নিতে সংস্কৃতিচর্চা নিয়ে দলটির কি পরিকল্পনা রয়েছে দৈনিক আজকালের খবরের পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরেছেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট আহমেদ তেপান্তর-
আজকালের খবর: বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ সংষ্কৃতি নিয়ে এক ধরনের প্রত্যাশা ও পরিকল্পনা ছিলো। বর্তমান তার দলটি ক্ষমতায়। এ ব্যাপারে সরকারের ভাবনা কী?
আতাউর রহমান ঢালী: মূলত দুটো রাজনৈতিক দর্শনকে সামনে রেখে বিএনপির জন্ম। প্রথমত; বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, দ্বিতীয়ত; বহুদলীয় গণতন্ত্র। বিএনপি বিশ্বাস করে রাজনৈতিক দর্শন সংস্কৃতির বাইরে নয়। কাজেই যখনই আমরা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বলি তখনই বিশেষ সংস্কৃতি ধারণ করি। এখানে দীর্ঘদিন ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ’ বিতর্ক হয়েছে, এমনকি ১৯৭৩ সালে সংসদেও ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। কারণ বাংলাদেশ শুধু বাসভূমি না। এখানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠির উপস্থিতি এবং অংশগ্রহণ রয়েছে। অর্থাৎ তাদের অস্তিত্ব বিদ্যমান।
এখানে প্রতিটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠির জাতিসত্ত্বার অস্তিত্ব প্রমাণ করে এরা বাংলাদেশের অংশ। হাজার হাজার বছর ধরে তারা ভাষা, সংস্কৃতি ঐতিহ্যের মেশালে সংস্কৃতির সঙ্গে বহমান। কাজেই তাদের যখন বলা হলো তোমরাও ‘বাঙালি’ এরা কিন্তু প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ছিলেন। যার কারণে সংগ্রাম, বিশৃংখলা, সন্ত্রাস, আন্দোলন যেভাবেই বলি না কেন প্রতিবাদ হয়েছে। জিয়াউর রহমানই প্রথম ব্যক্তি যিনি উপলব্ধি করেছিলেন এই সমস্যার। আর সমাধানেও নিয়েছিলেন কার্যকর উদ্যোগ। এখানে কেউ চাকমা, কেউ মারমা, কেউ বাঙালি কিন্তু অবশেষে অবশ্যই আমরা বাংলাদেশি।
একদিকে আমরা যেমন বাঙালি এটা সত্য, অন্যদিকে আমরা রাজনৈতিকভাবে ভূ-খন্ডের অধিকারী হওয়ায় ‘বাংলাদেশি’। অর্থাৎ নাগরিক হিসেবে যে পরিচয় সেটা কিন্তু জিয়াউর রহমানই স্থির করে দিলেন। তাই বলা যায় জিয়াউর রহমানের পথেই বিএনপি বর্তমান সরকার কাজ করে যাবে, নতুন করে কিছু ভাবার অবকাশ নেই।
আজকালের খবর: বর্তমান দলটির সংস্কৃতি নিয়ে পরিকল্পনা কি?
আতাউর রহমান ঢালী: আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া যে ঐতিহ্য-সংস্কৃতির ধারা রেখে গেছেন তা আরো এগিয়ে নেওয়া, বিকশিত করা এবং আরো সমৃদ্ধ করা।
আজকালের খবর: ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ইতিহাস সমৃদ্ধ আওয়ামী লীগ ‘নিষিদ্ধ’ হয়েছে, এখানে কি এক ধরনের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতির বিভাজন হয়ে গেল কিনা?
আতাউর রহমান ঢালী: এই প্রশ্নের জবাবটা একটু জটিল আমার জায়গা থেকে। তারপরও বলতে পারি বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক সংগঠন। ‘বহুদলে শতফুল ফুটতে দাও’ এখানে আমার মনে হয় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ হয়েছে এটা যেমন সত্য, তেমনি এর মানে এই নয় এখানেই সব শেষ। এরজন্য আইন আদালন রয়েছে, রাজপথ, আন্দোলন, আলোচনার জায়গায় নিশ্চয়ই শেষ হয়ে যায়নি। নিষিদ্ধ মানে শেষ নয় বরং শুরু।
ভেনিস কনভেনশন ২০০০ রয়েছে। বাংলাদেশ অবশ্যই এই কনভেনশন অনুসরণ করে। রাজনৈতিক দলের এই নিষিদ্ধকরণ কেবল বাংলাদেশেই না পৃথিবীর আরো অনেক দেশে রয়েছে। তবে উদাহরণ যাইহোক আমি বলতে পারি আমরা পেছনে ফিরবো না, জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিশ্বাস রেখে এগিয়ে যাবো। এখনতো পার্লামেন্ট আছে, নিশ্চয়ই বিতর্ক হবে, বিস্তর আলোচনার সুযোগ আছে। আরেকটা বিষয় পরিস্কার হওয়া উচিৎ যে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কৃতকর্মের জন্য অবশ্যই আইনগতভাবে বিচারের মুখোমুখি করানো হবে। তাদের বিরুদ্ধে গুম, খুন, ছাত্র হত্যা, দুর্নীতির মতো অভিযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে নতুন আইন করে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এরপর দলটি রাজনীতির অধিকার পাবে কি পাবে না এটা নিয়ে সংসদে বিতর্ক হতে পারে।
আজকালের খবর: সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাস নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনার কথা যদি একটু বলতেন?
আতাউর রহমান ঢালী: দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক খরার সঙ্গে সংস্কৃতির খরাও যুক্ত হয়েছিলো। এই খরার কারণে দেখা গেছে সংস্কৃতিকর্মীরা কখনো বিরোধী দলের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইতো না। তবে গণতান্ত্রিক উপায়ে বিএনপি সরকারে এসেছে। সংস্কৃতি চর্চার জায়গাটি এখন অনেক বেশি ওপেন হয়েছে। দলটিতে এখন নতুন নতুন যারা আসছেন তারা প্রজ্ঞাবান, মেধা-মননে বিকশিত প্রাণ এবং প্রগতিশীল। এদের মধ্যে সাংস্কৃতিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কথা আলাদা করে না বললেই নয়। তারা অনেক বেশি প্রগতিশীল চেতনার। চিন্তা ভাবনায় অনেক স্বচ্ছ। তাদের নেতৃত্বে পুরো জাতি সুস্থ সংস্কৃতির ধারায় ফিরবে বলে বিশ্বাস করি। আর এতে করে জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া জাসাসও নতুন করে প্রাণ সঞ্চারিত হবে।
আজকালের খবর: আওয়ামী ছায়াতলে থাকা অনেকেই ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের নতুন করে বিএনপির ছায়াতলে আসতে চাইছে। শিল্পী-কুশলীদের এই যে দ্রুত দলবদল এটাকে কিভাবে দেখবে বিএনপি?
আতাউর রহমান ঢালী: আমার মনে হয় না অতীতের সরকারের মতো বিএনপি এই ভুল করবে। অতীত থেকে বিএনপি অবশ্যই শিক্ষা নিবে। সংরক্ষিত নারী আসনে কোনো তারকাকে নমিনেশন না দেওয়াটাই তার বড় প্রমাণ। অতীতে শিল্পীদের যেভাবে রাজনীতিতে ব্যবহার করা হয়েছে এতে জনমানসে এই সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিএনপি চায় শিল্পীরা সমাজের দর্পণ হিসেবে দেশে এবং বিদেশে উজ্জ্বল ভাবমূর্তি তৈরি করবে। এই কাজে বিএনপি তাদের পাশে থাকবে।
আজকালের খবর: সংশ্লিষ্টতা নেই এমন সব অনুষ্ঠানে ত্রি-ধা বিভক্ত জাসাস নেতৃবিন্দকে দেখা যাচ্ছে। শুধু দেখা নয় সেখানে তাদের ডায়াসে দেখা যায়, অনেকে বিরক্ত হলেও কিছু বলার সাহস পায় না। উপদেষ্টা হিসেবে এ দিকটা কিভাবে দেখছেন?
আতাউর রহমান ঢালী: প্রশ্নের সঙ্গে দ্বিমত নেই। দুই মাসের কিছু বেশি সময় হলো বিএনপি সরকার গঠন করেছে। ১৭ বছরের জঞ্জাল হঠাৎ করেই পরিবর্তন আনা যাবে না। ভালো কিছুর জন্য অবশ্যই একটু সময় দিতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে। তিনি সবকিছুই জানেন। তাই এতটুকু বলতে পারি সময়মতো উপযুক্ত নেতৃত্বই আসবে, যারা তারেক রহমান এবং দেশকে নিরাশ করবে না।
আজকালের খবর: স্বাধীনতার ৫৫ বছরে অনেক শাসক এসেছিলেন। মাঝে জিয়াউর রহমান ব্যতিক্রম শাসক যিনি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে নিয়ে তার দূরদর্শী পরিকল্পনা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন। বাবার সেই ভাবনার পথে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এগিয়ে যাবেন কিনা?
আতাউর রহমান ঢালী: অবশ্যই। যেহেতু গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত বিএনপি এখন সরকারে, তাই আওয়ামী লীগের চিন্তা মাথায় রেখে কাজ করবে না, সে ব্যাপারে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে আস্বস্ত করতে পারি। চলচ্চিত্রকে নিয়ে তার সুন্দরতম পরিকল্পনা অবশ্যই আছে। লক্ষ করলে দেখবেন তিনি মেয়েসহ হলে গিয়ে সিনেমা দেখেছেন। এর মধ্যে এগিয়ে যাবার অনেক বার্তা রয়েছে।
আজকালের খবর: অতীতে বিএনপি তিনবার সরকারে ছিলো। শেষবার দুটো আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র উৎসব ছাড়া ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা দৃশ্যমান হয়নি। এবারে হবে এমন আশ্বাস কি সিনেমাপ্রেমিরা পেতে পারে?
আতাউর রহমান ঢালী: আপানার এই প্রশ্নের জবাব কিছুটা হলেও আগের প্রশ্নের জবাবে পেয়েছেন। তারপরও বলি আগে কি হয়েছে তা নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনবান্ধব হিসেবে নিজেকে প্রথম দিন থেকেই প্রমাণ করেছেন। এর পাশাপাশি একজন দায়িত্বশীল পিতা হিসেবে মেয়েকে নিয়ে সিনেমা দেখা কিংবা মেয়ে জাইমার লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়া বা বই কেনার খবর এগুলো কিন্তু সুস্থ চর্চার পথ দেখায়। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কিন্তু এসব খুবই বিরল উদাহরণ। আর এই চর্চার সঙ্গে দীর্ঘ সতের বছর প্রবাসে থাকাকালীন তিনি পরিচিত। প্রতি মুহুর্তে নিজেকে গড়েছেন। ‘সোনা পুড়ে যেমন খাঁটি হয়’- তারেক রহমানও তেমন নিজেকে প্রস্তুত করেছেন দেশবাসীর জন্য। তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়তে সুস্থধারার সংস্কৃতির বিকাশে তার পরিকল্পনা অতীতের চেয়ে অনেক বেশি শ্রেয়তর হবে যা শিগগিরই দৃশ্যমান হবে। একটা বিষয় খেয়াল করবেন উনি সকল ডিপার্টমেন্টর কথাই শুনছেন। প্রয়োজনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। আজকের কাজ আগামীকালের জন্য ফেলে রাখছেন না। তার মার্জিত আচরণ তারুণ্যের অগ্রযাত্রায় সংস্কৃতিবান্ধব পথ দেখাবে, তিনি সে পথেই আছেন। তবে অতীতের কারণে আপনার যে সংশয় তা অমূলক নয়, তবে একটা কথা মনে রাখা দরকার তা হচ্ছে- You can not be a Politician without Foundation of Cultural Heritage অর্থাৎ ‘সংস্কৃতিমনা না হলে রাজনীতিবিদ হওয়া সম্ভব না’। তাই সংস্কৃতিবান্ধব রাজনীতিবিদ হওয়ার বিকল্প নেই। তারেক রহমান এ ব্যাপারে খুবই সচেতন।
আজকালের খবর: উগ্রবাদী, মব সংষ্কৃতির বিরুদ্ধে বিএনপিকে কি ধরনের ভূমিকা নিতে দেখা যাবে বলে মনে করেন?
আতাউর রহমান ঢালী: উগ্রবাদী বা মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে দাঁড়াতে পারে সুস্থধারার সংস্কৃতিচর্চা। ইতিমধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সে পথেই আছেন। তিনি সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার বিকাশের মাধ্যমে তারুণ্যকে আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। শুধু পরিকল্পনাই নয় কাজেও নেমে পড়েছেন, যা দৃশ্যমান। আমাদের উচিৎ হবে যে যার জায়গা থেকে দায়িত্ব কাঁেধ তুলে নেওয়া। এখানে কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট না, পরিবার, সমাজ বা গ্রাম-মহল্লা যাই বলি না কেন সব জায়গা থেকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া চর্চায় তারুণ্যকে উজ্জীবিত করতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না এই রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছে যে আকাঙ্খা বাস্তবায়নে, কোনো অপশক্তি যেন মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে সে ব্যাপারে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
আজকালের খবর: মুক্তিযুদ্ধের ‘নির্মোহ’ ইতিহাস চর্চায় বিএনপির অবস্থান কি?
আতাউর রহমান ঢালী: বলা হয়ে থাকে যেকোনো ইতিহাস ঘটনার অর্ধশত বছর পর থেকে বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকে। আমার মনে হয় আমাদেরও সময় এসেছে ‘মুক্তিযুদ্ধের নির্মোহ’ ইতিহাস লেখার। দল হিসেবে বিএনপি মনে করে মুক্তিযুদ্ধ জাতির সবচেয়ে গর্বের জায়গা যেখানে সকলের অংশগ্রহণ ছিলো। দলমতের ঊর্ধে উঠে ইতিহাসবিদ, রাজনীতিকদের নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটা ‘নির্মোহ’ ইতিহাস উপহার দেওয়া বা লেখা জরুরি, নয়তো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আবারও বিভ্রান্ত হবে।
আজকালের খবর: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের একটি গুণের কথা বলুন?
আতাউর রহমান ঢালী: তিনি (প্রধানমন্ত্রী) তার মায়ের (প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া) মতোই অন্যদের পরামর্শ মনোযোগ দিয়ে শোনেন। এই শোনার ব্যাপারটা এমন যে- যতক্ষণ তিনি না বুঝতে পারছেন ততক্ষণ নানা জিজ্ঞাসার মাধ্যমে জানার চেষ্টা করেন। আমাদের দলের উপদেষ্টাদের মধ্যে যখন যাকে দরকার ডাকছেন। বিষয়ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে প্রকৃতচিত্র বোঝার চেষ্টা করছেন।
আজকালের খবর: সৌহার্দ্য-সংস্কৃতির বিকাশে মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতকে পাশে রেখে কাজ করতে বিএনপি সরকার কতটুকু প্রস্তুত?
আতাউর রহমান ঢালী: শুধু ভারতকে কেন, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, পাকিস্তানও আমাদের সম্পর্কের জায়গায় রয়েছে। তাদের সঙ্গে সংস্কৃতির বিনিময় আরো বাড়ানো প্রয়োজন। তবে হ্যাঁ, ভারতের সঙ্গে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে সঙ্গে আমাদের ভাষাগত মিল থাকায় সৌহার্দ্য-সংস্কৃতির গভীরতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে পারস্পারিক মর্যাদা আর সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক উষ্ণ হতে বাধা নেই। এতে করে দুই দেশের মধ্যেকার সংস্কৃতি চর্চায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সুযোগ রয়েছে। পূর্বের মতো বৈষম্য বা একতরফা কিছু বিষয় ছিলো, সেগুলো যেন না হয়।
আজকালের খবর: দীর্ঘক্ষণ আপনার মূল্যবাদ সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আতাউর রহমান ঢালী: আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যাদ।
আজকালের খবর/ এমকে