মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এর লক্ষ্য হলো- ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসনমূলক যুদ্ধের অবসান ঘটানো। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা আজ শুক্রবার জানিয়েছে, তেহরান বৃহস্পতিবার রাতে ইরান-মার্কিন আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের কাছে তাদের সর্বশেষ পরিকল্পনার লিখিত প্রস্তাব হস্তান্তর করেছে।
এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যুদ্ধের অবসান এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠাই তেহরানের প্রধান অগ্রাধিকার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে এই আগ্রাসনমূলক যুদ্ধ শুরু করে। এতে ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করা হয় এবং পারমাণবিক স্থাপনা, স্কুল, হাসপাতাল ও বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালানো হয়। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “অপারেশন ট্রু প্রমিস-৪”-এর আওতায় ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালায়। এতে শত শত ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং দখলকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়।
যুদ্ধ শুরুর ৪০ দিন পর ৮ এপ্রিল, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যার লক্ষ্য ছিল স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা। তবে ২১ ঘণ্টা ধরে চলা এই আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের “অতিরিক্ত দাবি” এবং অযৌক্তিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে।
২১ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হবে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন করে আলোচনা শুরু করার আগে ওয়াশিংটনকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবৈধ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। তেহরান আরও জানিয়েছে, যতোদিন এই অবরোধ বহাল থাকবে, ততোদিন তারা হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার কোনো পরিকল্পনা করছে না।
আজকালের খবর/একে