শনিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি সংকটে গাইবান্ধায় সব পাম্প বন্ধ
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৪:২৮ পিএম   (ভিজিট : ৪৭২)
তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে উত্তরের জেলা গাইবান্ধায়। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় জেলার সাত উপজেলার ১৭টি ফিলিং স্টেশনের সবগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে গাইবান্ধা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান উজ্জ্বল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একইদিন শহরের বিভিন্ন পাম্প ও উপজেলা পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে বন্ধ থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে।

সংকট মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন পাম্প মালিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছেন। দুপুর তিনটার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সংকটের কারণ ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা চলছে।

ফিলিং স্টেশন সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৪ হাজার লিটার অকটেন এবং ৩২ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সরবরাহ এসেছে তার অর্ধেকেরও কম। ফলে পাম্পগুলোতে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।

এদিকে তেল সংকটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। শহরের দাড়িয়াপুর রোডের গাইবান্ধা ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হামলায় দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শহরের প্রধান পাম্পগুলোর একটি এস এ কাদির অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশন গত তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ক্যাশিয়ার সরকার মিঠু মিয়া জানান, তিন দিন ধরে কোনো তেল নেই। পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়া পর্যন্ত পাম্প চালু করা সম্ভব নয়। কম তেল নিয়ে বিক্রি শুরু করলে জনরোষ ও সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকে।

একই অবস্থা রহমান ফিলিং স্টেশনেও। ম্যানেজার জুয়েল মিয়া বলেন, প্রথমে মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার তেল দেওয়া হলেও সংকট বাড়ায় তা ১০০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। পরে তেল একেবারেই শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প বন্ধ করতে হয়েছে।

অন্যদিকে, পাম্পে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ক্রেতাদের দাবি, এক লিটার তেল ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ জানাচ্ছেন অনেকে।

তবে পাম্প মালিকদের দাবি, বাইরের এলাকা থেকে অতিরিক্ত মোটরসাইকেল আসা, আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ এবং মজুদ করার প্রবণতা সংকটকে তীব্র করেছে। পাশাপাশি চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে তেল পাওয়ার আশায় শহরের বিভিন্ন পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে মোটরসাইকেল চালকদের। অনেকে দীর্ঘ অপেক্ষার পর খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী বাইকার সিয়াম বলেন, সরকার বলছে তেলের ঘাটতি নেই, কিন্তু বাস্তবে সব পাম্প বন্ধ। আমরা চরম বিপদে আছি।

আরেক গ্রাহক আবু সালেহ জানান, তিনদিন গাড়ি বের করিনি। আজ বের হয়ে চারটি পাম্প ঘুরেও কোথাও তেল পেলাম না।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে এবং জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। সংকটের শুরুতে প্রশাসনের তদারকিতে সীমিত পরিসরে তেল বিক্রি করা হলেও শেষ পর্যন্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একে একে সব পাম্প বন্ধ হয়ে যায়।

পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান উজ্জ্বল বলেন, জেলার ১৭টি পাম্পই এখন বন্ধ। কোথাও পেট্রোল-অকটেন নেই। শুরু থেকেই চাহিদার অর্ধেক সরবরাহ পাওয়া গেছে, যা সংকটকে তীব্র করেছে।

আজকালের খবর/ এমকে







আরও খবর


Advertisement
সর্বশেষ সংবাদ
মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশির মৃত্যু
সাংবাদিকদের অবসর ভাতা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী
ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
মিরপুরে কিউইদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে শুক্রবার
জ্বালানি সংকটে কুমিল্লা অচল: ৮১টির মধ্যে ৪৯ ফিলিং স্টেশন বন্ধ
নরসিংদীতে তিন দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft