প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৫৫ পিএম

ইরানে ৯ দিন ধরে চলমান নতুন বিক্ষোভে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান এ বিক্ষোভকে শান্তিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে দেশটির পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে এ বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার বলপ্রয়োগ করলে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভয়ংকর হামলা চালানো হবে বলেও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রবিবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প বলেন, ইরানে যা ঘটছে তা ‘খুব কাছ থেকে’ পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। আগের মতো যদি তারা মানুষ হত্যা শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্টের পক্ষ থেকে দেশটিতে শক্তিশালী আঘাত আসবে বলে আমি মনে করি।
ইরানে চলমান বিক্ষোভ ঘিরে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে, ১ জানুয়ারি নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছিলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের যদি ইরান গুলি করে ও সহিংসভাবে হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসতে প্রস্তুত।
আমরা সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত, যেকোনো সময় ইরানে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।প্রসঙ্গত, গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানের রিয়ালের মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে। এর পরপরই দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও ধর্মঘট শুরু হয়। গতকাল রবিবার টানা অষ্টম দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
ইরান ইন্টারন্যাশনাল নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ২৬টি প্রদেশের ৭৮ শহরের ২২টি স্থানে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে এরই মধ্যে ২০ জনে পৌঁছেছে।
এদিকে ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভকে ‘বিদেশি মদদপুষ্ট উসকানিদাতাদের কাজ’ বলে আখ্যা দিয়ে আরও ‘কঠোর দমন-পীড়নের’ আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
তিনি বলেছেন, কিছু উত্তেজিত লোক ও ভাড়াটে শত্রু ইসলাম ও ইরানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে। প্রতিবাদ বৈধ, কিন্তু প্রতিবাদ আর দাঙ্গা এক নয়। কর্মকর্তাদের উচিত প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে কথা বলা। তবে, দাঙ্গাবাজদের সঙ্গে কথা বলা অর্থহীন।
আজকালের খবর/ এমকে