বাংলাদেশে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন চিংফেং ঝাং।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) তিনি ঢাকায় তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এডিবি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চিংফেং ঝাং বাংলাদেশে এডিবির কার্যক্রম পরিচালনা করবেন, যা এডিবির অন্যতম বৃহৎ দেশভিত্তিক কার্যক্রম। তিনি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এডিবির দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করবেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কৌশলগত নীতি সংলাপে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশের জন্য এডিবির পরবর্তী উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নে দিকনির্দেশনা দেবেন।
নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর ঝাং বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ সফলভাবে বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদার করা, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যে সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে এডিবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আরও উন্নত অর্থায়ন পদ্ধতি, জ্ঞানভিত্তিক সমাধান এবং সফল বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা এ অগ্রযাত্রায় সহায়তা অব্যাহত রাখবো।
টেকসই উন্নয়ন ক্ষেত্রে ঝাংয়ের ৩০ বছরেরও বেশি পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে, যার মধ্যে ২০ বছরেরও বেশি সময় তিনি এডিবিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত জীবনে তিনি কৃষি, খাদ্যব্যবস্থা, পানিসম্পদ, পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে রূপান্তরমূলক কর্মসূচি ও কৌশলগত উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেইসঙ্গে সরকার, উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
চিংফেং ঝাং এর আগে এডিবির অ্যাগ্রিকালচার, ফুড, নেচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেক্টর অফিসের সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই পদে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই ও স্থিতিস্থাপক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে এডিবির কৌশলগত কার্যক্রমে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
চীনের নাগরিক ঝাং সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ প্রকৌশলে ডক্টরেট, সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং হাইড্রোলজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে বিশেষায়িত পেশাগত শিক্ষাগ্রহণ করেছেন।
বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে এডিবির সদস্য হয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে এডিবির চলমান সরকারি ও বেসরকারি খাতের অনুদান ও প্রকল্প-অর্থায়নের পরিমাণ প্রায় ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা এডিবির অন্যতম বৃহৎ দেশভিত্তিক কর্মসূচি। বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তার জন্য এ পর্যন্ত প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও অনুদান অনুমোদন করেছে এডিবি।
বাংলাদেশে টেকসই প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়া, দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা জোরদার করা, আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তার লক্ষ্যে বছরে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা অনুমোদনের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।
আজকালের খবর/বিএস