রাষ্ট্রের প্রতিটি কর্মঘণ্টা এবং জনগণের করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
তিনি বলেন, সরকারি কার্যক্রমে সময়, অর্থ ও জনশক্তির দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে জনসেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করাই হতে হবে প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য।
আজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির সহ-আয়োজনে রাজধানীর বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণের আগে এর প্রয়োজনীয়তা ও জনকল্যাণে এর প্রভাব বিবেচনা করতে হবে। এখন সময় এসেছে প্রতিটি সভা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার মূল্যায়ন করার। আমরা কত টাকা ব্যয় করলাম, কত কর্মঘণ্টা বিনিয়োগ করলাম এবং তার বিনিময়ে জনসেবার মান কতটুকু উন্নত হলো- এই হিসাবও প্রশাসনের অংশ হতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা, ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের পরিবর্তন, জলবায়ু সংকট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও দক্ষ প্রশাসন, বিচক্ষণ কূটনীতি এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সিভিল সার্ভিসের মাধ্যমে এর প্রভাব অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব।
এজন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সর্বদা সজাগ, দূরদর্শী ও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি সকলকে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মানুবর্তিতা, দেশপ্রেম অনুসরণ করে কাজ করার আহ্বান জানান। এছাড়া, কর্মকর্তাদের তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে ডেলিগেশন অব ফাইন্যান্সিয়াল পাওয়ার অনুযায়ী নথিতে সিদ্ধান্ত প্রদানের নির্দেশনা দেন।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সরকারের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে প্রশাসন। ইশতেহারের সফল বাস্তবায়নের সুফল আপনার পরিবার, আপনার সন্তান এবং দেশের প্রতিটি নাগরিক ভোগ করবে। আজ আমাদের সামনে একটি আধুনিক, দক্ষ ও জনমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলার ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে।

কর্মশালায় টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারকে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন সূচক (ট্র্যাকার) প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ সরকারি প্রতিশ্রুতিগুলোকে পরিমাপযোগ্য সূচকে রূপান্তর করে নীতি বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতা আরো শক্তিশালী করেছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের কার্যকর ট্র্যাকার তৈরিতে প্রয়োজনে দক্ষ আইটি বিশেষজ্ঞ ও ডেটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতের জনপ্রশাসন হবে উপাত্তভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা, গতি ও জবাবদিহিতা আরো বাড়ানো সম্ভব। মানুষের সঙ্গে প্রযুক্তির কার্যকর সংযোগ যত বাড়বে, প্রশাসনিক কার্যক্রম তত বেশি দক্ষ ও ফলপ্রসূ হবে।
তিনি কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান। কারণ, একজন সুস্থ, সৎ ও ভারসাম্যপূর্ণ কর্মকর্তাই জনগণকে সর্বোত্তম সেবা দিতে পারেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম। এছাড়া অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং একাডেমির প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আজকালের খবর/ এমকে