যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজের ভাবিকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যার অভিযোগে বাংলাদেশি নাগরিক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন প্রসিকিউটররা। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বহিষ্কারের পর একাধিকবার অবৈধভাবে পুনরায় প্রবেশের অভিযোগও রয়েছে।
ফ্লোরিডার লেক কাউন্টির একটি গ্র্যান্ড জুরি বুধবার ৪৪ বছর বয়সী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ গঠন করে। ২০২৫ সালের ২ মে ৪৪ বছর বয়সী মনিকা ইসলামকে হত্যার ঘটনায় এ অভিযোগ আনা হয়েছে।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্টেট অ্যাটর্নি বিল গ্ল্যাডসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর হলে এ হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো। তিনি দাবি করেন, শহিদুল ইসলামের দীর্ঘ অভিবাসন-সংক্রান্ত ইতিহাস রয়েছে এবং তাকে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হলেও তিনি একাধিকবার অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করেন।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, মনিকার স্বামী রাশেদুল ইসলাম এবং তার ভাই শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মনিকার ওপর পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ ওঠে।
তদন্তে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার আগে মনিকা ইসলামকে তার মেয়ের কর্মস্থল একটি কনভেনিয়েন্স স্টোরে দেখা যায়। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে তাকে শহিদুল ইসলামের গাড়ির দিকে হেঁটে যেতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন সকাল ৭টার দিকে মাউন্ট ডোরা এলাকার বাইরে একটি সড়কের পাশ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রসিকিউটরদের দাবি, হত্যার দিন সকালে শহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনের তথ্য ও অনলাইন কার্যক্রমে হত্যাকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট একাধিক সন্দেহজনক অনুসন্ধানের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া তার গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে যাত্রীর পাশের ভাঙা জানালা, দরজায় আটকে থাকা একটি বুলেট এবং গাড়ির ভেতরে রক্তের দাগ উদ্ধার করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় ওই রক্ত মনিকা ইসলামের বলে শনাক্ত হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যার পর শহিদুল ইসলাম একটি গাড়ি ভাড়া করে নিউইয়র্ক সিটিতে পালিয়ে যান। পরে যৌথ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তাকে নিউইয়র্ক থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফেডারেল অভিবাসন-সংক্রান্ত মামলায় ব্যবস্থা নেওয়ার পর হত্যা মামলার বিচারের জন্য তাকে লেক কাউন্টিতে ফিরিয়ে আনা হয়।
আদালত ও অভিবাসন নথির বরাতে প্রসিকিউটররা জানান, শহিদুল ইসলামকে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে তিনি অবৈধভাবে পুনরায় দেশটিতে প্রবেশ করেন, অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধে ১০ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড ভোগ করেন এবং মুক্তির পর নজরদারির শর্ত ভঙ্গ করে বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফ্লোরিডার প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ব্লেইস ইনগোগ্লিয়া বলেন, এমন নৃশংস সহিংসতার শিকার কোনো পরিবারই হওয়া উচিত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, বহিষ্কারের পর শহিদুল ইসলাম অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে এ অপরাধ সংঘটিত করেন এবং পরে একটি ‘স্যাংচুয়ারি সিটিতে’ পালিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, ফ্লোরিডা অপরাধ, অবৈধ অভিবাসন এবং ‘স্যাংচুয়ারি সিটি’ নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখবে এবং আইন মেনে চলা পরিবারগুলোর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
আজকালের খবর/ এমকে