কয়েকটি নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় সিলেট ও উত্তরাঞ্চলের সাতটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
কেন্দ্রের শনিবারের (২৭ জুন) নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এর ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আগামী ৭২ ঘণ্টায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
এছাড়া, তিস্তা নদী নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে, সুরমা নদী সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে, কুশিয়ারা নদী শেরপুর-সিলেট অংশের মৌলভীবাজার পয়েন্টে এবং সোমেশ্বরী নদী নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।
বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে, অপরদিকে দুধকুমার নদীর পানি সমতল কমেছে; যা আগামী তিন দিন বাড়তে পারে।
এর ফলে আগামী ৭২ ঘন্টায় এসব নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে সিলেট বিভাগে ভারি থেকে অভিভারি এবং উজানে ভারতের মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশে আগামী পাঁচ দিন ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল বেড়েছে, যা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
৩০ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদ ও যমুনা নদী কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বেড়েছে, অন্যদিকে সুরমা নদীর পানি সমতল কমেছে; যা আগামী তিন দিন বাড়তে পারে।
এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের খোয়াই ও সোমেশ্বরী নদীর পানি সমতল বেড়েছে, অন্যদিকে মনু ও ধলাই নদীর পানি সমতল কমেছে। আর সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে; যা আগামী তিন দিন বাড়তে পারে।
এ সময় সোমেশ্বরী নদী নেত্রকোনা জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।