বিশ্বজুড়ে শিয়া মুসলিমরা পবিত্র আশুরা পালন করেছেন গভীর শোক, প্রার্থনা ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা, সংঘাত ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ বছরের আশুরা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বৃহস্পতিবার থেকেই দেশগুলোতে আশুরার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আজ শুক্রবার জুমার নামাজ ঘিরে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ প্রার্থনার।
দ্য নিউ আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, আশুরা ইমাম হুসাইনের শাহাদাতের স্মরণে পালিত হয়। ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালায় তিনি উমাইয়া শাসকের প্রতি আনুগত্য স্বীকারে অস্বীকৃতি জানিয়ে পরিবার ও সঙ্গীদের সঙ্গে শহীদ হন। এই ঘটনা ইসলামে সুন্নি-শিয়া বিভাজনের অন্যতম ঐতিহাসিক ভিত্তি এবং অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
ইরানের রাজধানী তেহরানে কালো পোশাক পরিহিত শোকাহত মানুষ মসজিদ, হোসাইনিয়া ও সড়কে জড়ো হয়ে মাতম করেন। শহরের বহু দোকানপাট বন্ধ ছিল এবং স্বেচ্ছাসেবীরা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে চা ও খেজুর বিতরণ করেন।
আশুরার আগের সন্ধ্যায় ইমাম রুহুল্লাহ খোমেনীর মাজারে অনুষ্ঠিত শোকানুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ইমাম হুসাইন মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি লেখেন, আমরা যেন কাউকে অত্যাচার না করি, অত্যাচার মেনেও না নিই এবং অন্যায়ের সামনে নীরবও না থাকি।
অন্যদিকে লেবাননের উপকূলীয় শহর টায়ারে হিজবুল্লাহর হয়ে নিহত যোদ্ধা ও প্যারামেডিকদের পরিবারের সদস্যরা শোকসভায় অংশ নেন। ধর্মীয় বক্তারা কারবালার ঘটনার সঙ্গে বর্তমান সময়ের সংগ্রামের মিল তুলে ধরেন। শহরের বিভিন্ন সড়ক ইমাম হুসাইনের নামে লাল-কালো ব্যানারে সজ্জিত করা হয়।
আজকালের খবর/বিএস