এবারের বিশ্বকাপে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে লিওনেল মেসি। আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। নকআউট পর্বে ওঠার জন্য এই ম্য়াচটা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শেষ পর্যন্ত আলবিসেলেস্তেরা ২-০ গোলে জয়লাভ করেছে। আর দুটো গোলই করেছেন লিওনেল মেসি।
এই মহাবিশ্বে সময় যত এগোচ্ছে, মেসির বয়স যেন ততই কমছে। যে মানুষটা একটা সময় আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন, বর্তমানে তিনিই ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে গোটা দুনিয়া কাঁপাচ্ছেন। গত ম্য়াচে হ্যাটট্রিকের পর এই ম্যাচেও মেসিময় পারফরম্য়ান্স আশা করেছিল গোটা ফুটবল বিশ্ব। তিনি তো ম্য়াজিশিয়ান। পায়ের জাদুতে জিতে নিলেন গোটা বিশ্বের হৃদয়।
খেলার ৩৮ মিনিটে গোল করে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই 'তরুণ' ফুটবলার। ম্যাচের শুরুতেই একটি পেনাল্টি মিস করেছিলেন বটে! এর আগে, ২০২২ বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে গোল করা নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেছিলেন। এবার যেন ইচ্ছে করেই পোস্টের বাইরে মারলেন মেসি! ওপেন প্লে থেকে কয়েকবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত বাম পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন তিনি। ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মেদিনার পাস থেকে দুর্দান্ত দৌড়ে উঠে এসে গোলটি করেন তিনি।
এই গোলের মাধ্যমে মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা ছয় ম্যাচে গোল করা মাত্র তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে নিজের নাম লেখালেন। একই সঙ্গে গত ৫৬ বছরে এই কীর্তি গড়া প্রথম খেলোয়াড়ও তিনি। ১৯৭০ সালে ব্রাজিলের জর্জিনহো সবশেষ এই বিরল রেকর্ড গড়েছিলেন। তবে আধুনিক ফুটবলে এমন ধারাবাহিকতা দেখিয়ে মেসি নিজেকে আবারও আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে আরও একবার পায়ের জাদু দেখালেন লিওনেল মেসি। আক্রমণ গড়ে তুলতে গিয়ে তিনি বাম দিকে বল বাড়িয়ে দেন জুলিয়ান আলভারেজের কাছে। আলভারেজের শট অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগার আটকে দেন। কিন্তু, বিপদ পুরোপুরি কাটাতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে ফিরে আসা বল আবারও পেয়ে যান মেসি। তাঁর প্রথম শটও রুখে দেওয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় আর ভুল করেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। দুই অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে দুর্দান্ত শটে বল জড়িয়ে দেন জালে।
মেসির এই অবিশ্বাস্য রূপকথা শুরু হয়েছিল ২০২২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ থেকে। এরপর তিনি কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডস, সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া এবং ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করেন। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তিনি করেছিলেন জোড়া গোল। ফলে ২০২২ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি।
২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে নিজের গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল করে সেই সংখ্যা পৌঁছে যায় টানা ছয় বিশ্বকাপ ম্যাচে। এই গোলের সুবাদে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বাধিক গোলদাতার আসনেও বসেছেন। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে পৌঁছেও মেসির খিদে, দক্ষতা এবং ম্যাচে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা যে একটুও কমেনি, তা আবারও প্রমাণিত হলো। ফুটবল বিশ্বের কাছে তিনি শুধু একজন কিংবদন্তিই নন, বরং ইতিহাসের সংজ্ঞা বদলে দেওয়া এক অনন্য নাম।
আজকালের খবর/কবির