সরকারের ডিজিটাল রূপান্তর কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাউবি) শুরু হয়েছে ‘ডি-নথির ব্যবহার ও বাস্তবায়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ’ কর্মশালা।
দাপ্তরিক কার্যক্রমে কাগজনির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার (২২ জুন) গাজীপুর বাউবি ক্যাম্পাসের শিক্ষক সেমিনার হলে প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চারদিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ ২২-২৩ জুন এবং দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ ২৪-২৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে। দুই ব্যাচে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুল ও বিভাগের মোট ৫০ জন কর্মকর্তা অংশ নেবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করতে ডি-নথির কোনো বিকল্প নেই। ডি-নথি চালুর মাধ্যমে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই দ্রুত নথি আদান-প্রদান, অনুমোদন ও সংরক্ষণ সম্ভব হবে। এতে যেমন সেবার গতি বাড়বে, তেমনি সময় ব্যয় ও কাগজের ব্যবহার কমে পরিবেশবান্ধব প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বৃহৎ দূরশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাখো শিক্ষার্থীর কাছে দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে ডি-নথির কার্যকর ব্যবহার এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কাজে প্রয়োগের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাউবিকে একটি স্মার্ট, আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার টি. এম. আহমেদ হুসেইন বলেন, সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডি-নথি সরকারি প্রশাসনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথি তৈরি, সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তির ফলে কাজের গতি বাড়বে, ভুল কমবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম হবে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল। তিনি প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিরাপদ ও কার্যকর ডি-নথি ব্যবহারের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহির রায়হান। তিনি বলেন, শুধু প্রযুক্তি গ্রহণ করলেই হবে না, তার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে বাস্তবায়নের পাশাপাশি অন্য সহকর্মীদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলেই একটি দক্ষ, আধুনিক ও গতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- কম্পিউটার বিভাগের পরিচালক মো. মাসুম বিল্লাহ।
প্রশিক্ষণে রিসোর্স পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এটুআই-এর সিনিয়র কনসালটেন্ট আবু সালেহ মো. মাহফুজুল আলম এবং জুনিয়র কনসালটেন্ট মো. সজিবুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রশাসন বিভাগের ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ শাখার যুগ্ম-পরিচালক ড. মো. শওকত আলী।
আজকালের খবর/বিএস