মালয়েশিয়ায় আটক দুই হাজারেরও বেশি বাংলাদেশিকে মুক্ত করতে দেশটির সরকারের সাথে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২২ জুন) রাতে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি লা হোটেলে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় অদক্ষ শ্রমিক আসা বন্ধ করতে দেশের টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করা হচ্ছে। এছাড়া আগামী এক বছরে মধ্যপ্রাচ্যগামী বাংলাদেশিদের ‘বেসিক আরবি’ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্কুলে ইংরেজিসহ পাঁচটি ভাষা এবং স্পোর্টস সিলেবাসে বাধ্যতামূলক করা হবে।
ইতোমধ্যে দেশের এক হাজার কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময় লাগলেও সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার। তবে বর্ষা মৌসুম আসায় আগামী মাস থেকে খাল খনন বন্ধ থাকবে। তিনি আরও বলেন, অন্য দেশের নতুন প্রজন্মের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের পাঁচটি ভাষা শেখানো হবে, তার মধ্যে ইংরেজিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। শুধু গল্প নয়, সময় লাগলেও সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনের মধ্যে থেকে প্রবাসীদের জন্য যতো সুবিধা আদায় করা যায়; সবকিছু করা হবে। হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশের সামনে অপার সম্ভাবনা রয়েছে, এজন্য পরিশ্রমের পাশাপাশি সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। তিনি বলেন, অতীতে আমার পরিবারের সঙ্গে যা হয়েছে; এজন্য কোনো প্রতিশোধ নিতে চাই না। ধৈর্য ধারণ করে ধীরে ধীরে এগোতে হবে। সবশেষে দাবি থেকে বেরিয়ে কর্তব্যের জায়গা থেকে দেশ নিয়ে কাজ করার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে তিনি কুয়ালালামপুরে পৌঁছালে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে কুয়ালালামপুরে পৌঁছান তিনি। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। লাল গালিচা সংবর্ধনার পাশাপাশি তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সুসজ্জিত বাহিনীর দেওয়া গার্ড অব অনারের সময় দু’দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিশেষ ফ্লাইট কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে অবতরণের পর ভিভিআইপি টার্মিনালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তাঁর সহধর্মিণী। ছোট শিশু মাইসা নুর আইশা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় ডা. জুবাইদা রহমানকে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ও উপহাইকমিশনার সাহানারা মনিকা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এরপর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি লা হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ও সফরসঙ্গীরা এই হোটেলে থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শাংগ্রি লা হোটেল পর্যন্ত ৫০ মিনিট সড়ক পথ বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের এটি প্রথম বিদেশ সফর। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ রয়েছেন।